মার্কেটিং শব্দের প্রয়োগ!!!

মার্কেটিং শব্দের প্রয়োগ!!!

মার্কেটিং শব্দের প্রয়োগ মাঝেমধ্যে আমাদের কনফিউজড করে দেয়! ক্রেতা, বিক্রেতা, বিক্রয়কর্মী এমনকি গণমাধ্যম অহরহ এ-বিষয়ে ভুল প্রয়োগ করে যাচ্ছে। কেন এমনটা হয়? খুব সংক্ষেপে সেটা ব্যাখ্যা করতে চেষ্টা করছি…

‘মার্কেটিং’ শব্দটা শোনামাত্রই আমাদের চোখে ভেসে উঠে একজন পণ্য বিক্রেতার ছবি। যার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো– সম্ভাব্য ক্রেতাদের ভুলভাল বুঝিয়ে বিশেষ পণ্যটি গছিয়ে দেওয়া। কিন্তু মার্কেটিং এর মতো বিশ্বব্যাপী বহুল ব্যবহৃত একটি আর্টের ক্ষেত্র কি এতোটাই সীমিত?

অবশ্যই না। অন্ধের হাতি দেখার মতো কেউ হাতিকে ‘দড়ি’ বা ‘কুলা’র মতো মনে করলে তাতে হাতির আকারে কোনো প্রভাব পড়ে না। ঠিক তেমনিভাবে, মার্কেটিংকে যারা শুধুমাত্র পণ্য বিক্রির চেষ্টা বলে মনে করেন– তারা খুব সম্ভবত বিশাল বটবৃক্ষের দু’একটি ডালপালা দেখেই উপসংহারে পৌঁছে গেছেন যে মহীরুহের আকারটি কেমন!

আমরা বুঝি বা না বুঝি অক্সিজেন ছাড়া মানুষ যেমন বাঁচতে পারে না, শিক্ষা ছাড়া আধুনিক জীবন যেমন অপূর্ণ; ঠিক তেমনিভাবে আমাদের জীবনে মার্কেটিংয়ের উপস্থিতিও অপরিহার্য। সচেতনভাবে কিংবা নিজের অজান্তে মার্কেটিং চর্চা করে না– এরকম মানুষ চারপাশে খুঁজে পাওয়া অসম্ভব! তবে মার্কেটিং বিষয়ে বিস্তর আলোচনার সুযোগ এখানে সীমিত। আগ্রহ থাকলে বণিকবার্তা প্রকাশিত আমার ‘মার্কেটিংয়ের সহজপাঠ’ বইটি পড়ে দেখতে পারেন। মার্কেটিং সংক্রান্ত অসংখ্য বিষয়ে ভাবনার ধরণ বদলে যাবে– এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

একটা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান সাধারণত চার ধরণের উপযোগ সৃষ্টি করে। সেগুলো হলো– আকার বা রূপগত (form), সময়গত (time), স্থানগত (place), এবং মালিকানার পরিবর্তন (ownership or possession)। আপনি জেনে অবাক হবেন, শুধুমাত্র প্রথম উপযোগ সৃষ্টির কাজটি করে উৎপাদনকারী (manufacturing) শাখা।

বাকি তিনটি কাজই করতে হয় মার্কেটিং বিভাগকে! ফলে একটি প্রতিষ্ঠানে মার্কেটিংয়ের গুরুত্ব বা এই শাখায় কর্মরতদের দায়িত্ব কত বেশি তা সহজেই অনুমেয়। ফিলিপ কটলার মনে করেন, সেলস হলো– টিপ অব দ্যা আইসবার্গ। অর্থাৎ বাইরে যেটা দেখা যায় সেটা হলো বিক্রয়। কিন্তু এর গভীরে অন্তত সাতগুণ বেশি থাকে মার্কেটিংয়ের ভূমিকা।

অধিকাংশ বিক্রয়কর্মী কথাপ্রসঙ্গে বলেন, তিনি মার্কেটিংয়ের জবে আছেন। চারপাশে মানুষ মার্কেটিং শব্দটা এত বেশি ব্যবহার করে যে মাঝেমধ্যে বিস্ময়জাগে। কারণ দীর্ঘদিন যাবত এবিষয়ে খোঁজখবর রাখায়– এর গভীরতা সম্পর্কে কিছুটা আঁচ করতে পারি। তখন বুঝতে চেষ্টা করি– তারা ঠিক কী অর্থে এই শব্দটা ব্যবহার করেন।

পরিশেষে ধারণা করি– তারা বিক্রয়ের কাজকেই মার্কেটিং বলে মনে করেন। অথচ দুনিয়ার অসংখ্য বড় প্রতিষ্ঠান এই দুটো কাজের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ডিপার্টমেন্ট মেইনটেইন করে। বাস্তবিক অর্থে সেলস হলো মার্কেটিং চেষ্টার ফল। তবে কোনোপ্রকার মার্কেটিং ছাড়াও বিক্রয় হতে পারে। যেমন– আমাদের দেশে বিদ্যুত বা গ্যাসের মতো পণ্য ক্রেতারা নিজ গরজেই কিনতে যায়। হয়ত সেকারণেই তারা ওই ডিপার্টমেন্টের নামকরণ করে ‘বণ্টন ও বিক্রয় বিভাগ’– মার্কেটিং বিভাগ নয়।

দরকার, প্রয়োজন নাকি চাহিদা
অর্ডার করতে এখানে ক্লিক করুন

অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের মতে– বিক্রয় হলো মার্কেটিং চেষ্টার ইতিবাচক আউটকাম। অর্থাৎ মার্কেটিংয়ের লোকেরা যে নিরন্তর চেষ্টা চালায় তা যদি সফল হয় তখন চূড়ান্ত বিক্রয় সম্পন্ন হয়। এক্ষেত্রে খেয়াল রাখা দরকার– বিক্রয় হলে তবেই মার্কেটিং হবে– ব্যাপারটা তেমন নয়। কারণ চেষ্টার সমষ্টিই হলো– মার্কেটিং। আরও সহজ করে বলা যায়: চিকিৎসা দেওয়ার পরেও রোগী মারা যেতে পারে। তাই রোগী বাঁচুক বা মরুক– তাকে বাঁচানোর যে চেষ্টা; সেটাই হলো– চিকিৎসা। ঠিক তেমনিভাবে পণ্য বিক্রি হোক বা না হোক– পণ্যটিকে গ্রহণযোগ্য করার যে চেষ্টা সেটাই হলো মার্কেটিং।

আচ্ছা, কম মেধাবীরাই কী মার্কেটিং বিষয়ে পড়ে? যদি সত্যিই সেটা করে থাকে তবে কী সেটা হওয়া উচিত? এবিষয়ে জানতে এখানে ক্লিক করুন…

Follow Me

error

করোনা সতর্কতায় কোন ছাড় নয়, প্লিজ