স্বপ্ন বনাম বাস্তবতা!

স্বপ্ন বনাম বাস্তবতা!

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে স্বপ্ন বনাম বাস্তবতা– এ এক গোলক ধাঁধাঁ। এ-বিষয়ে পড়ুন ভিন্নধর্মী বিশ্লেষণ… 

যে ছেলে বা মেয়েটা আঠারো বছর বয়স পর্যন্ত স্বপ্ন দেখল ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হবার; সেখানে চান্স না পাওয়ায় অভিভাবক জোর করে পাঠাচ্ছে বিবিএ পড়তে! পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ পড়ার সুযোগ পেয়ে মা-বাবা বেজায় খুশি! কিন্তু শিক্ষার্থীর মনের অবস্থা কেউ কি জানতে চেষ্টা করছি? সেটা না করায় তার মধ্যে চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পাবার প্রতিভা থাকলেও মা-বাবা’র বর্তমান চাওয়া হচ্ছে– ভবিষ্যতে ন্যূনতম পরিচয় দেবার মতো একটা ‘চাকরি’র নিশ্চয়তা। আর বিবিএ পড়লে এখনো চাকরির বাজারে অগ্রাধিকার পাওয়া যায় বলে তারা শুনেছেন; ফলে সেটাই পড়তে হবে!

শিক্ষার্থী মোটেও এই বিষয়ের সাথে খাপ খাওয়াতে পারবে কি না, কিংবা মানসিকভাবে প্রস্তুত কি না– তা কেয়ার করার মতো সময় কোথায়! সেজন্য বিবিএ’র ছাত্রছাত্রীদের সাথে প্রথম ক্লাসে সাধারণত বলি– তোমরা মন খারাপ করো না। ধরে নাও ভালোবেসেছিলে একজনকে, হঠাৎ মা-বাবা জোর করে বিয়ে দিয়েছে ‘ভালো পাত্র বা পাত্রী’র সাথে। চেষ্টা করো তার সাথেই মন দিয়ে ঘর-সংসার করতে!

শিক্ষা স্বপ্ন ক্যারিয়ার
বর্তমান শিক্ষার্থীদের বইটি অবশ্যই পড়া উচিত…

সেটেল্ড ম্যারেজের মতো সেটেল্ড সাবজেক্ট নিয়ে অনার্স ও মাস্টার্স পড়া; তারপরে সারাজীবন সেই ঘানি টানতে থাকা (সংশ্লিষ্ট বিষয়ে চাকরি করা)। ভালো লাগুক বা না লাগুক ‘একটা কিছু’তো করছে– তাতেই আমরা সন্তুষ্ট। সেজন্যই হয়তো যুগের পর যুগ কাজ চালিয়ে নেবার মতো লোক পাচ্ছি। কিন্তু সর্বোচ্চ পর্যায়ের পেশাগত দক্ষতা অর্জনের উদাহরণ খুবই কম।

প্রত্যাশিত পেশা থেকে নগদ প্রাপ্তিই যেন আমাদের অগ্রাধিকার। যদি সামান্য শংকাও থাকে ভবিষ্যতে ঐ-পেশা থেকে কম লাভবান হবার তবে প্যাশনকে গুডবাই বলে আমরা ছুটছি পয়সার দিকে। হয়তো সে কারণেই সাকিব আল হাসান ক্যারিয়ারে সাফল্যের শীর্ষে থেকেও ক্রিকেটের সাথে সংশ্লিষ্ট উদ্যোগ না নিয়ে রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় নেমেছে। সিনেমার পর্দায় এক সময়ের সফল জুটি মৌসুমী-ওমরসানি সিনেমা সংশ্লিষ্ট কাজের বাইরে খুলে বসেছে তৈরি পোশাকের ব্যবসা!

এশিয়ান হকিতে এক সময় ম্যান অব দ্যা ম্যাচ হওয়া প্লেয়ার নাকি নিউমার্কেটে খুলেছে স্টেশনারি পণ্যের দোকান। যুুক্তি হিসাবে বলেছে– খেলা ছেড়ে দেবার পরে সংসার চলবে কীভাবে? তাই তো–পেটে ক্ষুধা নিয়েতো আর শিল্পচর্চা হয় না। ফলে যে সন্তানটি খেলোয়াড় বা শিল্পী হবার স্বপ্নে বিভোর, মনেপ্রাণে সচেষ্ট– তাকে আমরা পাঠাচ্ছি একাডেমিক কোচিং সেন্টারে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হতে। পরিশেষে সে ডাক্তারও হয় না, খেলোয়াড়ও হয় না। যেটা হয় সেটা হলো– পরিবার, সমাজ, ও রাষ্ট্রের বোঝা!

মেসি কিংবা রোনাল্ডোর কাজের স্বীকৃতি দেবার আগে আমরা কি জানতে চাই– তারা কী পাস? শাহরুখ কিংবা আমির খানের প্রশংসা করার আগে কি কখনো ভাবি তাদের লেখাপড়ার দৌড় কতোদূর? সাকিব ও মুশফিকুর রহিমের মধ্যে কে বেশি শিক্ষিত? হিরো সাকিব খান আর ফেরদৌসের মধ্যে কে ভার্সিটি পাস? নায়িকা জয়া, শাবনুর, মাহীরা স্কুলে পেছনের নাকি সামনের সারির ছাত্রী ছিল?

এই প্রশ্নগুলো একেবারেই গৌণ একারণে যে আমরা তাদের যে ভূমিকার জন্য চিনেছি তার সাথে লেখাপড়া কিংবা ভালো রেজাল্ট মোটেই সম্পর্কিত নয়। তাদের নিজ নিজ কর্মগুণ আমাদের কাছে তাদের পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য করেছে। নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করার সুযোগকে পাশ কাটিয়ে প্যাশনকে গুরুত্ব দিয়ে প্রত্যন্ত গ্রামে এসে কাজ করলে ড. মুহাম্মদ ইউনুসের মতো নোবেল পুরস্কার মেলে কিংবা হুমায়ুন আহমদের মতো খ্যাতিমান লেখক হওয়া যায়। কিন্তু আমরা কেরানিগিরি মানসিকতা থেকে মুক্ত হতে পারিনি বলেই হয়তো যা যা করলে চাকরি পাওয়া যায় শুধুমাত্র সেগুলির পেছনে ছুটি–প্যাশন বা হৃদয়ের ডাক শোনার সময় কোথায়?                                                                                              উৎস: লেখকের শিক্ষা স্বপ্ন ক্যারিয়ার বই থেকে সংকলিত। 

কেউ আমাদের খুন করছে না…ভোক্তা অধিকার বিষয়ে তথ্যবহুল এই লেখাটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন

Follow Me

error

করোনা সতর্কতায় কোন ছাড় নয়, প্লিজ