লাগামহীন প্রত্যাশা ও সন্তুষ্টি!

লাগামহীন প্রত্যাশা ও সন্তুষ্টি!

লাগামহীন প্রত্যাশা ও সন্তুষ্টি কী পরস্পর নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত? এ বিষয়ে পড়ুন মো. আব্দুল হামিদের মার্কেটিং বিশ্লেষণ…

ধরা যাক, ঠিক এই মুহূর্তে আপনার ভুনা খিচুড়ি ও মাংস খেতে ইচ্ছে করছে। আলাদিনের দৈত্য চোখের পলকে সেটা আপনার সামনে হাজির করল। পরের বেলা খাওয়ার সময় পোলাও-কোর্মা, সেটাও হাজির। এভাবে চাইনিজ, থাই, স্প্যানিশসহ দুনিয়ার যে খাবারই খেতে ইচ্ছে হয়, আগ্রহ প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই তা আপনার সামনে উপস্থিত! বিষয়টা যদি সত্যিই এমন হয়—তবে কেমন হবে বলুন তো? খুব ভালো, তাই না?

কিন্তু আমার মার্কেটিংয়ের জ্ঞান সেটা সমর্থন করে না। এমনটা ঘটতে থাকলে খুব দ্রুতই আপনি সংকটে পড়বেন। কীভাবে? এক্ষেত্রে ছোটবেলা দেখা এক নাটকের কথা মনে পড়ছে। নামটা ঠিক মনে নেই। তবে আসাদুজ্জামান নূর ছিলেন বাবার ভূমিকায়। উনার ছোট দুই সন্তান। তারা অনেক কিছুই আবদার করত। কিন্তু পিতার আর্থিক সংকট ও নানা সীমাবদ্ধতার কারণে সেগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো না। একদিন তাদের বাবা বলল, আজ তোমাদের ইচ্ছে পূরণ করা হবে। বলো তোমরা কে কী চাও? তারা চাইল ‘যা খুশি তা করা’র স্বাধীনতা।

প্রত্যাশা ও সন্তুষ্টি
বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

প্রথমে তারা চিড়িয়াখানায় ঘুরতে চায়। নিয়ে যাওয়া হলো। জাদুঘর দেখতে চায়। দেখানো হলো। যা যা খেতে চায়, খাওয়ানো হলো। আর কখনো স্কুলে যেতে চায় না, সেটাও মঞ্জুর করা হলো। একপর্যায়ে আইসক্রিম খেতে ইচ্ছে হলো। দেয়া হলো। কিন্তু যত খুশি তত খাওয়ার সুযোগ থাকায় একপর্যায়ে আর খেতে ইচ্ছে করছিল না; সেগুলো ছুড়ে ফেলতে মন চাইল। বাবা হাসি মুখে বললেন, যথার্থ। আইসক্রিম বিক্রেতা একটা করে আইসক্রিম হাতে দেয় আর তারা সেগুলো ছুড়ে মারতে থাকে। কিছুক্ষণ সেটা করার পরে খুব বিরক্ত হয়ে তারা বলে ওঠে—এত স্বাধীনতা ভালো লাগে না, বাবা!

পরদিন থেকে তারা আবার স্কুল, পড়ালেখার মতো নিয়মিত কাজে অংশ নেয়। তবে এবার তারা স্বেচ্ছায় এবং আনন্দের সাথে সেগুলো করতে থাকে! অর্থাৎ জীবনে গণ্ডি বা সীমারেখা থাকার দরকার আছে। গোলপোস্ট না থাকলে যেমন ফুটবল খেলা আনন্দদায়ক হতো না, ঠিক তেমনিভাবে ক্রিকেট খেলায় বাউন্ডারি লাইন। কিন্তু ঘটনাক্রমে (এটাকে দুর্ভাগ্য বা সৌভাগ্য বলছি না), ইন্টারনেট আজ আমাদের তেমন অবস্থায় ফেলেছে।

আগে পাড়া-মহল্লায় স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসে ছোট্ট স্টেজ করে এলাকার ছেলেমেয়েরা তাল-লয়হীন এমনকি বেসুরো গলায় গান করত। দর্শক-শ্রোতা সেগুলো দারুণভাবে উপভোগ করত। অথচ এখন সাবিনা ইয়াসমিন, জেমস কিংবা ন্যান্সির গানও মাঝেমধ্যে ভালো লাগে না। অরিজিৎ সিং কিংবা কুমার শানুর গান বড় একঘেয়ে লাগে!

কেন এমনটা হয়? আগে বিনোদনের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা থাকত। তিন ঘণ্টার সিনেমা বা এক ঘণ্টার নাটক যাই হোক— নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তৃপ্তিটা খুঁজে নেয়ার প্রচেষ্টা থাকত। তাছাড়া খুব ভালো লাগা মুহূর্তগুলো সহজেই হূদয়ে গেঁথে যেত। ফলে মাত্র একবার দেখা সিনেমার গানের কলিও গুনগুন করে অনেককে গাইতে শোনা যেত। হলে সিনেমা দেখে এসে তার পুরো গল্প অন্যদের বলতে পারত।

কিন্তু এখন বিনোদন রাজ্য সীমাহীন। এর শুরু আছে, শেষ  নেই। একের পর এক খুঁজতে থাকি। কোনোটা পাঁচ বা দশ সেকেন্ড দেখেই পরেরটায় জাম্প করি। এভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা খুঁজি। কিন্তু আসলে কী খুঁজি—তা আমরা জানি না! কী আজব সমস্যা, তাই না? সারা বাড়ি খুঁজে ফিরছেন অথচ ‘কী খুঁজছেন’ তা স্পষ্ট নয়—এটা সমস্যা না? আমার তো মনে হয় ভয়ানক সমস্যা।

একবেলা ইন্টারনেট সংযোগ না থাকলে নিজেকে হতভাগা মনে হয়। মনে হয় গোটা দুনিয়ার কত কিছু থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। কিন্তু পুনঃসংযোগ পাওয়ার পর সত্যিকার কাজের কাজ হয় ঠিক কত মিনিট? পাঁচ বা দশ মিনিট, সর্বোচ্চ আধা ঘণ্টা—তাই না? তারপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেটা নিয়ে পড়ে থাকি। পড়ালেখা, প্রার্থনা, কাজের প্রস্তুতি সব গোল্লায় যায়। তবুও সেটা ছেড়ে উঠতে মন চায় না!

আবার দীর্ঘ সময় দেখার পর সেটা যে খুব তৃপ্তি নিয়ে শেষ করি—ব্যাপারটা তেমনও নয়। প্রত্যাশা ও সন্তুষ্টি যেন ঠিক বিপরীত মেরুতে অবস্থান নিয়েছে! এই প্রক্রিয়াকে ‘দিল্লিকা লাড্ডুুর আরেক সংস্করণ বলে মনে হয়! প্রকৃতপক্ষে যখন তখন, যেখানে সেখানে যা খুশি তা হাতের মুঠোয় পাওয়ার সুযোগ আমাদের বল্গাহীন প্রত্যাশাকে প্রতিনিয়ত উসকে দিচ্ছে। ফলে মানুষের সন্তুষ্ট হওয়ার (বা থাকার) মাত্রা অতি দ্রুত কমে যাচ্ছে!

আপাতদৃষ্টিতে দরিদ্র পিতাদের ‘হতভাগা’ মনে হয়। কারণ তারা চাইলেও সন্তানের পছন্দের জিনিস কিনে দিতে পারে না। ফলে সন্তানদের মনে কষ্ট থাকে। কিন্তু প্রত্যাশিত জিনিসটা কিনে দিতে পারলেই কি তারা সন্তুষ্ট থাকত? আমার তা মনে হয় না। যদি সেটাই সত্য হয়, তবে বিপুল সম্পদের অধিকারী (বা চাওয়ামাত্রই সন্তানদের প্রত্যাশামাফিক জিনিস কিনে দেয়ার সামর্থ্য রাখা) পিতাদের প্রতি তাদের সন্তানেরা খুবই সন্তুষ্ট থাকত। যুক্তি তো তাই বলে।

কিন্তু বাস্তবতা আদৌ তেমন নয়। বরং গরিব পরিবারের স্ত্রী-সন্তানেরা মোটের ওপর পরিবারপ্রধানের প্রতি অনেক বেশি সন্তুষ্ট এবং কৃতজ্ঞ থাকে। ধনী পরিবারের সদস্যদের সীমাহীন ক্রয়ক্ষমতাসম্পন্ন ক্রেডিট কার্ড হাতে তুলে দেয়ার পরও তারা অধিকাংশই অসন্তুষ্ট এবং পরিবারপ্রধানের ওপর বিরক্ত থাকে। তাছাড়া ওসব পাওয়াকে তারা ‘অধিকার’ মনে করে। ফলে কৃতজ্ঞতার প্রশ্নই ওঠে না!

এখন কথা হলো ব্যবসায়ের একজন শিক্ষার্থী হিসাবে এই আলোচনা থেকে কী শিক্ষা নিতে পারি?

 হাল আমলে একজন সম্ভাব্য ক্রেতা তার সমস্যা সমাধানের জন্য অসংখ্য বিকল্প ‘পণ্য ও সেবা’র অফার পাচ্ছে। এমন চর্চায় তাদের প্রত্যাশার আওতা প্রসারিত হচ্ছে। ফলে তাদের সন্তুষ্ট করা (বা রাখা) ক্রমেই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তাদের সামনে যাই হাজির করা হোক না কেন—সেটা তাদের আপ্লুত করছে না! প্রত্যাশা ও সন্তুষ্টি সাধারণত একই বিন্দুতে মিলছে না।

দরকার, প্রয়োজন নাকি চাহিদা
বইগুলো হোম ডেলিভারি পেতে এখানে ক্লিক করুন

তাছাড়া অ্যামাজন, আলিবাবার মতো প্রতিষ্ঠানগুলো পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে প্রস্তুতকৃত পণ্যগুলো হাতে পাওয়ার ক্ষেত্রে সব প্রতিবন্ধকতা চোখের নিমিষে দূর করে ফেলছে। ফলে সীমিত সামর্থ্যের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য এমন পরিস্থিতিতে টিকে থাকা বা মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো সত্যিই কঠিন হয়ে পড়ছে।

তাহলে ধ্বংসের জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া কি কিছুই করার নেই? না, ব্যাপারটা আমরা অন্যভাবেও দেখতে পারি। এক্ষেত্রে আমার খুব প্রিয় কনসেপ্ট হলো—Blue Ocean Strategy. যার মূল কথা হলো—Make the competition  irrelevant! অনেক ক্ষেত্রে প্রতিযোগীদের সীমাহীন বাড়াবাড়িতে ক্রেতারা মাঝেমধ্যে সর্বোত্কৃষ্ট প্রযুক্তি বা স্টেট অব দি আর্ট সার্ভিসেও বোরড হয়ে যাচ্ছেন।

তাছাড়া সুস্পষ্টভাবে তাদের চেয়ে ‘বেশি কিছু’ অফার করাও আপনার পক্ষে সম্ভব নয়। এ অবস্থায় ব্যবসায়ের জন্য এমন ক্ষেত্র (অথবা বিদ্যমান ব্যবসায়ে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য) খুঁজে বের করুন, যাতে আপনি অনন্য! বিশ্বমানের হওয়ার পরিবর্তে আপনার ইউনিকনেস দিয়ে তাদের হূদয় স্পর্শ করতে সচেষ্ট হোন। ট্যুরিজমের ক্ষেত্রে একটা উদাহরণ বলি:

আজকাল মানুষ বড় বেশি ক্লান্ত। সবসময় ভালো ও সঠিক থাকার অভিনয় করতে করতে তারা আর মেকি সুন্দরগুলো নিতে পারছে না। অনেক সময় তা নিজের ভেতরে প্রবলভাবে বিরক্তির উদ্রেক করছে।  ফলে তারা অনেকেই ফিল করেন…দূর গ্রামে কোনো এক পরিবার যদি পরম মমতায় তাদের সাদরে গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত থাকত!

ছুটির দিনে খুব ভোরে রওয়ানা দিয়ে দুপুরের বেশ আগেই তাদের বাড়িতে পৌঁছে যাবেন। এলাকাটা পায়ে হেঁটে ঘুরে দেখবেন। আশেপাশের মানুষদের সাথে খোলামনে কথা বলবেন। আগের দিনে খালা বা ফুফুর বাড়িতে গেলে ঠিক যেমনটা লাগত—তেমন একটা অনুভূতি আপনাকে স্পর্শ করতে শুরু করবে। সেখানে বিদ্যুৎ নেই; তাতেও কোনো সমস্যা নেই। তেঁতুল বা নিম গাছের শীতল ছায়ায় হাতপাখার বাতাস হলেই চলবে।

কেউ গাছ থেকে ডাব পেড়ে দেবে। দুপুরে বাড়ির পাশের পুকুরে গোসল করবেন। বহুদিন পর ইচ্ছেমতো সাঁতার কাটবেন। সম্ভব হলে পায়ের নিচে পড়া দুই-একটা মাছও হাত দিয়ে ধরে সন্তানের দিকে ছুড়ে দেবেন। দুপুরে খেতে বসে থাকবে না কোনো আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজন। ঝরঝরে সাদা ভাত, একটু বেগুন ভাজা, দেশী মুরগির ঝোল, আর পাতলা ডাল।

পরিবেশনকারী হবেন পরম মমতাময়ী মায়ের প্রতিচ্ছবি। বিকেলে গাছের নিচে মাচায় বসে মেজবানের প্রতিবেশীদের সাথে গল্প করার সময় পিঠা বা পায়েস খাওয়া আপনাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে শৈশবের সেই দিনগুলোতে। সূর্যাস্তের আগেই তাদের কাছ থেকে বিদায় নেবেন। ফিরতে থাকবেন ইট-কাঠ-পাথরের স্তূপে। কিন্তু মনের গহিনে রেশটা রয়ে যাবে…। এমন একটা দিন যদি সত্যিই কেউ অফার করে—আপনি যাবেন না?

পাঁচ তারকা মানের হোটেলের শেফ নেই, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের যন্ত্র নেই। ব্যয়বহুল রিসোর্টের রোবট মার্কা পরিবেশনকারী নেই। এমনকি ডাইনিং টেবিলও না থাকতেই পারে। তাতে কি আপনার তৃপ্তির এতটুকুও ঘাটতি হবে? আমার ক্ষেত্রে হবে না। এমনকি আপনার সন্তানেরও না। কারণ সে তো প্রকৃতিরই অংশ। গ্রামের শিশুদের সাথে মেশার সুযোগ তার ভেতরের প্রকৃত ‘আমি’-কে বের হয়ে আসতে সাহায্য করবে। ক্ষণিকের জন্য হলেও এই কৃত্রিমতায় মোড়া নগরজীবনের বাইরের পৃথিবীটাকে সে দেখার উপলক্ষ খুঁজে পাবে।

আমার কথা বিশ্বাস না হলে— আপনার দূরবর্তী কোনো আত্মীয় বা (জীবনে তথাকথিত সফল হতে না পারা) প্রাইমারি স্কুলের কোনো এক সহপাঠীর বাড়িতে নিজ উদ্যোগে একদিন ঘুরতে যান। সে প্রথমে সংকোচ বোধ করলেও আপনি যেতে উদ্যত হোন।  দেখবেন কৃত্রিমতায় মোড়া এই জগতের বাইরেও রয়েছে ভিন্ন এক পৃথিবী। যারা ‘প্রতিযোগিতাকে সত্যিই অপ্রাসঙ্গিক করে’ হেসে খেলে জীবনটা কাটিয়ে দিচ্ছে।

আর আপনি-আমি কী করছি? অন্যদের সেট করে দেয়া স্ট্যান্ডার্ডে নিজেদের প্রতিনিয়ত মাপছি। আর সেই মানদণ্ডে নিজের ব্যর্থতার কথা ভেবে মুষড়ে পড়ছি! প্রতিটা দিনের শেষে নিজেকে পরাজিত, বিধ্বস্ত এক সৈনিক মনে হচ্ছে। প্রত্যাশা ও সন্তুষ্টি যেন চিরশত্রু– একজন থাকলে আরেকজন কাছে ভিড়ছে না! ফলে কাশিমপুর কারাগার থেকে পালানো গেলেও অন্যদের দৃষ্টিতে ‘সফল মানুষগুলো’র স্বোপার্জিত শৃঙ্খল থেকে মুক্তির পথ নেই জানা! নগরজীবনে কামলা খাটা অধিকাংশের জীবনের গল্পটা এমনই—তাদের রোল আর স্ট্যাটাস যাই হোক না কেন।

যাহোক, আপনার ব্যবসায়ে স্বতন্ত্র ও সফল হওয়ার সূত্র ঠিক এখানেই খুঁজতে হবে। আপনার প্রতিযোগীরা বিশ্বমানের পণ্য ও সেবা দিতে উদগ্রীব। তারা সেটা করতে থাক। আপনি জুতসই পণ্যের সাথে যুক্ত করুন আন্তরিকতা, দরদ ও ভালোবাসার ছোঁয়া। কখনো ভেবেছেন, মানুষ কাউকে ভালোবাসে কেন? আপনার সন্তানের প্রতি যে ভালোবাসা, সেটাও কি নিঃস্বার্থ?

খুব সম্ভবত, না। এর বিনিময়ে আমরা নিজেদের মানসিক পরিতৃপ্তি (বেটার ফিলিংস) খুঁজি। কাউকে ভালোবাসলে যদি নিজের ভালো লাগে— তবেই তা অব্যাহত (বা ক্রমবৃদ্ধি ঘটতে) থাকে। ঠিক এই বোধটা আপনার ব্যবসায়ে ইনজেক্ট করতে হবে। অর্থাৎ ক্রেতাদের সেবা দিলে আপনার বেটার ফিলিংস হতে হবে। সত্যিই সেটা হলে আপনার সফলতা অনিবার্য!

সিলেটে হোম ডেলিভারি পেতে কল করুন 01711-996032 নম্বরে (মালঞ্চ বুক সেন্টার)

তাছাড়া ক্রেতাদের সেই পণ্য ও সেবাটাই অফার করুন, যাতে আপনি ‘অনন্য’। প্রতিযোগীরা হয়তো ধরতেও পারবে— আপনি ঠিক কোন গুণাবলি দিয়ে সফল হচ্ছেন। কিন্তু তারা চাইলেও সেটা অনুকরণ (বা কপি) করতে পারবে না। তাদের অফার আপনার কাছাকাছি হলেও—ক্রেতারা আপনার কাছ থেকেই সেটা পেতে স্বস্তি বোধ করবে। কারণ তাদের প্রত্যাশা ও সন্তুষ্টি ঠিক আপনার কাছেই এক বিন্দুতে মিলিত হবে। এখনকার দিনে ব্যবসায়ে সফল হওয়ার জন্য এটা খুবই কার্যকর কৌশল।

আপনি তীব্র প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে রক্তাক্ত হওয়ার পথ বেছে নিতেই পারেন। কিন্তু তাতে সফলতা আসবেই, সেটা হলফ করে বলা যাবে না। অথচ আপনার অফারটি যদি অন্যদের সাথে তুলনা নয়, শুধু অনুভব করা যায়—তবে সময় লাগলেও সফলতা আসবেই। তাছাড়া খেয়াল রাখবেন, আপনার ব্যবসায়ের লক্ষ্য যেন শুধু মুনাফা অর্জন না হয়; বরং (কিছু মানুষের জীবনে হলেও) দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী ইমপ্যাক্ট ক্রিয়েট করা!

মো. আব্দুল হামিদ: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষক ও ‘ফেইলিওর ইন সেলস’ বইয়ের লেখক।

উৎস: বণিক বার্তা, ২৫ আগস্ট ২০২০।  প্রত্যেক ক্রেতাই এখন ক্রাইম রিপোর্টারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। এ-বিষয়ে মজার একটি লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন।

Follow Me

error

করোনা সতর্কতায় কোন ছাড় নয়, প্লিজ