মার্কেটিংয়ে ভবিষ্যদ্বাণী!

মার্কেটিংয়ে ভবিষ্যদ্বাণী!

মার্কেটিংয়ে ভবিষ্যদ্বাণী! মো. আব্দুল হামিদ

২০০০ সালের দিকে খুচরা কেনাবেচার প্রকৃতি কেমন হবে– সে বিষয়ে টাইমস ম্যাগাজিন এক ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল। তারা ১৯৬৬ সালে দাবী করে যে, ওই শতাব্দীর শেষভাগে দূর থেকে কেনাকাটার সুযোগ-সুবিধা বাড়লেও তা খুব একটা গ্রহণযোগ্যতা পাবে না।

এ-ব্যাপারে তাদের প্রধান যুক্তি ছিল: মহিলারা কোন জিনিস কেনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই সেটা নেড়েচেড়ে দেখতে পছন্দ করে। তাই শুধু (ক্যাটালগ বা ম্যাগাজিনে) ছবি দেখে তা কেনার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে– এই বিষয়টা অসম্ভব। তখন অবশ্য ইন্টারনেটের মতো বস্তু সম্পর্কে কারোরই কোন ধারণা ছিল না।

২০০০ সাল পরবর্তী বিশ্বে দেখা গেল, তাদের ধারণা দুই আঙ্গিক থেকেই ভুল। প্রথমত, শিল্পোন্নত রাষ্ট্রগুলোতে দূরবর্তী স্থান থেকে কেনাকাটা বেশ জনপ্রিয় হয়। যার পরিমাণ বর্তমানে ৩.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের চেয়েও বেশি। দ্বিতীয়ত, অনলাইন দুনিয়ায় সিংহভাগ ক্রেতা নারী (এবং সেটা ৭২ পারসেন্ট)! অর্থাৎ নারী ক্রেতাদের যে বৈশিষ্ট্যকে ঈঙ্গিত করা হয়েছিল– তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

মার্কেটিংয়ে ভবিষ্যদ্বাণী

আমাদের দেশের বাস্তবতাও অভিন্ন। কারণ কোন বাসায় যদি মাত্র একবার অনলাইনে পণ্য কেনার অভিজ্ঞতা থাকে, তবে তা নারী ক্রেতা হবার সম্ভাবনাই বেশি। এ-সংক্রান্ত পণ্যের ফেসবুক লাইভ প্রদর্শনীগুলোতে ভিজিটরের সংখ্যা থেকেও সেটা অনুমান করা যায়!

এভাবে বিভিন্ন সময় মার্কেটিংয়ে ভবিষ্যদ্বাণী ভুল প্রমাণিত হয়েছে। যেমন, ইথারনেটের উদ্ভাবক Robert Metcalf ১৯৯৫ সালে অভিমত দিয়েছিলেন: একবছরের মধ্যেই ইন্টারনেট সিস্টেম ভেঙ্গে পড়বে! তাছাড়া ২০০৭ সালে নিউইয়র্ক টাইমস বলেছিল, দৈনন্দিন জীবনে যোগাযোগের ক্ষেত্রে টুইটার পুরোনো দিনের শর্ট ওয়েভ রেডিও’র চাইতে বেশি কিছু অবদান রাখতে পারবে না!

তবে তাদের অধিকাংশ অনুমানই ঠিক বা কাছাকাছি থাকে। কিছু ব্যতিক্রম তো হতেই পারে, তাই না?

রঙ্গভরা বঙ্গদেশ লেখাটির কথা মনে আছে? পাঠকদের খুব ভালো লাগা একটি নিবন্ধ। পড়তে এখানে ক্লিক করুন। 

© Md. Abdul Hamid (মো. আব্দুল হামিদ)। লেখকের অনুমতি ছাড়া এই সাইটের লেখা কোন মাধ্যমে প্রকাশ করা যাবে না।

Follow Me

error

করোনা সতর্কতায় কোন ছাড় নয়, প্লিজ