উপেক্ষিত টিনএজ মার্কেট!

উপেক্ষিত টিনএজ মার্কেট!

উপেক্ষিত টিনএজ মার্কেট! মো. আব্দুল হামিদ

সে বহুকাল আগের কথা। তখন গণকের কাছে গিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানার প্রচলন ছিল। এমন এক মাকে অনেক হিসাব-নিকাশ করে জ্যোতিষী বললেন, তোমার সন্তান দীর্ঘজীবন পাবে। তবে শর্ত হলো, সে যেন কখনো নিজের প্রতিবিম্ব না দেখে। সেভাবেই কেটে গেল অনেকদিন। ছেলেটা যৌবনে অতি সুদর্শন হলো। অনেকেই তার প্রেমে পড়ল। কিন্তু কারো রূপ তাকে মুগ্ধ না করায় সে তাদের প্রত্যাখ্যান করে। একদিন পাহাড়ি জলাধারে উপুড় হয়ে পানি পান করতে গিয়ে সেই যুবক (স্থির জলে) নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে। জলমানবটির রূপ তাকে বিমোহিত করে।

সে এতটাই মুগ্ধ হয় যে এক মুহূর্তের জন্যও চোখ ফেরাতে পারছিল না। একপর্যায়ে তাকে আলিঙ্গন করতে উদ্যত হয়। পানি নড়ে ওঠায় প্রতিবিম্বটি হারিয়ে যায়। সে ভাবে, জলের গভীরে গেলে সেই অনিন্দ্যসুন্দর মানুষটিকে পাওয়া যাবে। তাই সে পানিতে ঝাঁপ দেয় এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়। গ্রিক মিথ অনুযায়ী সেই যুবকটির নাম ছিল—নার্সিসাস। হয়তো সে কারণেই নিজের রূপ ও গুণে অতিশয় মুগ্ধ হওয়ার প্রবণতাকে মনোবিজ্ঞানীরা নাম দিয়েছেন—নার্সিসিজম।

আজকাল সোস্যাল মিডিয়া লাখো-কোটি নার্সিসাসের ভারে জর্জরিত। ফেসবুক-ইউটিউব-টিকটক-লাইকি-ভিগোর নার্সিসাসরা নিজের রূপ-গুণে এতটাই মুগ্ধ যে আর কিছু শেখা-জানা-নিজেকে সমৃদ্ধ করার প্রয়োজন অনুভব করে না। বরং এক বা একাধিক মাধ্যমে নিজেদের প্রতিভা প্রদর্শনে থাকে সদা তত্পর। বিপুল জনসংখ্যার দেশে অনেক সময় রাস্তায় নগ্ন পাগলের উদ্ভট আচরণ দেখার জন্যও লোকে ভিড় করে। ঠিক তেমনিভাবে তাদের কিম্ভূতকিমাকার কর্মকাণ্ড দেখার জন্য অসংখ্য মানুষও জুটে যায়।

উপেক্ষিত টিনএজ মার্কেট

তবে শিক্ষা- দীক্ষা, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সুনির্দিষ্ট কোনো পদ্ধতির মধ্য দিয়ে গড়ে না ওঠায় তারা চলতে থাকে রাডার ছাড়া জাহাজ কিংবা স্টিয়ারিং ছাড়া গাড়ির মতো। নিজেরা জীবনে ভালো কোনো নাটক-সিনেমা দেখা কিংবা গল্প-উপন্যাস পড়ার সুযোগ পেয়েছে বলে মনে হয় না। আর নার্সিসাসরা সেটার প্রয়োজনীয়তা কখনো অনুভবও করে না। ফলে তাদের অনুসারীদের ঠিক কী বলতে চায়, কেন বলে—অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা নিজেরাও জানে না।

সম্প্রতি টিকটকার ও লাইকিবাজ অপু ভাই ও প্রিন্স মামুন ইস্যুতে বিষয়গুলো সামনে এসেছে।  আর আলম তো বগুড়ার গণ্ডি পেরিয়ে এখন এফডিসি কাঁপাচ্ছে! কি চিনতে পারছেন না? নামের আগে একটা ‘হিরো’ লাগিয়ে নেন—এবার চেনা যায়? আপনার চিনতে কষ্ট হলেও আমাদের কিশোর-তরুণদের বড় একটা অংশ কিন্তু তাদের মারাত্মক ফ্যান-ফলোয়ার! বিভিন্ন শহরে তাদের ফ্যান ক্লাব গঠন করা কিংবা ‘ভাই’য়ের মর্যাদা রক্ষায় প্রয়োজনে রাজপথ রক্তে রঞ্জিত করার সৈনিকও ইদানীং হরহামেশা দেখা যাচ্ছে!

অপুর গ্রেফতার ও মামুনের মুচলেকা দেয়ার খবরে অনেকেই (তাদের কর্মকাণ্ড জানার পরে) বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। প্রশ্ন তুলেছেন, তারা এমন কী সৃষ্টিশীল কাজ করছে বা সংশ্লিষ্ট ইন্ডাস্ট্রিতে এমন কী অবদান রাখছে যে ‘সেলিব্রেটি’র তকমা পাবে? পাশাপাশি অনেকেই তাদের ফ্যান-ফলোয়ারদের রুচিবোধ নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন। এ প্রসঙ্গে বলা যায়, তারা আসমান থেকে আকস্মিক ছুটে এসে বাংলার জমিনে পড়েনি। এর আগে সালমান মুক্তাদির, রাফি, প্রত্যয় হিরণ, তৌহিদ আফ্রিদী, রঙ্গন হূদ্যর মতো অনেককেই দেখেছে। এমনকি হিজাবি কুইন স্কার্ফ পরেও যে খেল দেখিয়েছে, তাতে এরাও সফলতা পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে!

উপেক্ষিত টিনএজ মার্কেট

ক্রমেই প্রযুক্তি পণ্যের বিস্তার হচ্ছে। কল্পনাতীত সুযোগ-সুবিধা হাতের মুঠোয় চলে আসছে। ফলে এখন আর ক্যামেরা, লাইট, সেট, স্ক্রিপ্ট, নির্দেশক, পরিচালক কিছুই লাগে না। জঙ্গলে বা ফুটপাতে মুখ ভেংচি দিয়ে দুটো খিস্তি আওড়ে বা অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে ১৩ সেকেন্ডের ভিডিও আপলোড দিলেই হাজার হাজার লাইক-কমেন্ট পাওয়া যায়। শর্টকাটে এমন খ্যাতি পাওয়ার সুযোগ কে হাতছাড়া করতে চায় বলুন? তাছাড়া আলম যদি ‘হিরো’ হতে পারে, মামুন যদি ‘প্রিন্স’ হতে পারে, ক্ষৌরকর্মে দক্ষ অপুর ‘ভাই’ হতে সমস্যা কোথায়?

তবে সংশ্লিষ্ট নিউজগুলো পড়ে বা খবর দেখে সবাই যেভাবে এক কথায় তাদের খারিজ করে দিচ্ছেন, মার্কেটিংয়ের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি সেটা পারছি না! কারণ আমাদের বিশ্লেষণে সর্বপ্রথম মাথায় আসে ‘মার্কেট’-এর বিষয়টা। সেদিক থেকে হিরো আলমের এখন পর্যন্ত (ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে) অনুসারীর সংখ্যা ১৩ লাখের ওপরে; ‘শাহরিয়ার নাজিম জয় শো’-তে দেয়া তার ইন্টারভিউটি এ পর্যন্ত দেখেছে প্রায় ৪১ লাখ মানুষ!

যে দেশে বহু নেতার বক্তৃতার সময় সামনে দশজন শ্রোতা থাকে না। সেখানে দশ ক্লাস পড়া একজন নাপিতের যদি ১০ লক্ষাধিক ফলোয়ার থাকে, তার মাথা একটু গরম হতেই পারে, তাই না? একজন ইঞ্জিনিয়ারকে রাস্তায় পেটানো তার কাছে মামুলি ব্যাপার! অন্যদিকে হিরো আলম এখন (অভিনয় প্রতিভা দিয়ে নয়, নোংরা রাজনীতির উপকরণ হয়ে) চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি-সেক্রেটারিকে চ্যালেঞ্জ করতেই পারে! মামুন নাকি (৭০ লাখ ফলোয়ার নিয়ে) টিকটকের বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে ১৩ নম্বরে রয়েছে! তাহলে নিজেকে ‘সেলিব্রেটি’ ভাবাটা মোটেই অসম্ভব ব্যাপার নয়!

ব্যবসায় শিক্ষার্থীদের জন্য বই
বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

এখন প্রশ্ন হলো, এমন স্বল্পশিক্ষিত, অভিনয়ে অদক্ষ, অশুদ্ধ ভাষায় কথা বলা কিশোর-তরুণরা কীভাবে এমন অবস্থানে এল? এ প্রশ্নের জবাব দেয়ার দায় প্রতিষ্ঠিত ও স্বীকৃত সেলিব্রেটিদের! তাদের অযোগ্যতা বা ব্যর্থতাই কি (অনেকের ভাষায়) এমন ‘হিজড়া মার্কা’ তারকার জন্ম দিচ্ছে না? খুব সম্ভবত স্বীকৃত ‘হিরো’রা এখনো ধরতেই পারেননি যে তাদের পায়ের নিচের মাটি কত দ্রুত সরে যাচ্ছে! প্রকৃতি শূন্যস্থান পছন্দ করে না। ভালো কাজ না হলে মন্দ কাজ সে জায়গা দখল করে নেবে, সেটাই তো স্বাভাবিক।

জীবনচক্রের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী তরুণরা বিনোদনজগতের প্রধান কাস্টমার গ্রুপ। বাস্তবে এই প্রজন্ম যে গতিতে প্রযুক্তি পণ্যের হাত ধরে এগোচ্ছে, আমাদের বিনোদন কারবারীরা কি তার ধারেকাছেও রয়েছেন? তাছাড়া এটা এমনই এক সংকটাপন্ন অবস্থা যে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কিশোরদের কাছে বিশেষ কিছু ইউটিউবার হলিউড স্টারদের চেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে! অথচ আমাদের এই ইন্ডাস্ট্রির হর্তাকর্তারা এখনো পরস্পর কামড়াকামড়িতে ব্যস্ত! মাঝেমধ্যে ভাবি, তারা কিসের জন্য লড়াই করছে—রাজ্য তো এরই মধ্যে অন্যরা শাসন করছে!

আচ্ছা, ভিক্ষুক কী বিক্রি করে? নইলে আমরা তাদের পয়সা দেই কেন? এর মার্কেটিং বিশ্লেষণ পড়তে ক্লিক করুন এখানে…

নতুন প্রজন্ম কী দেখতে চায়, কী শুনতে চায়, সে বিষয়ে ভাবার মতো বিনোদনজগতে সত্যিই কি কেউ আছেন? পরিবর্তন এতটা দ্রুত হচ্ছে যে অনেক সময় ট্রেন্ড ফলো করাও মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। একবার ভাবুন, মাত্র এক দশক আগেও গোটা দুনিয়ার শিশু-কিশোরদের কাছে স্বীকৃত কিছু আইকন ছিল। মি. বিন, চার্লি চ্যাপলিন, টম-জেরি, মিকিমাউস নামগুলো শুনলেই তাদের স্ব-স্ব বৈশিষ্ট্য ভিজুয়ালাইজ করতে পারত। অন্যদিকে স্পাইডারম্যান, সুপারম্যান, আয়রনম্যানরা শিশু-কিশোরদের মনোজগতকে ভীষণভাবে নাড়া দিত। কিন্তু এখনকার দশজন শিশুর ‘কমন হিরো’ খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব; দেখা যাবে এক শিশু যার সুপার ফ্যান, অন্যজন তার নামই জানে না!

এমন পরিস্থিতিতে বিশাল এই মার্কেট সেগমেন্ট সম্পর্কে নীতিনির্ধারকরা, বিনোদন কারিগররা, কলাকুশলীরা চরমভাবে উদাসীন থাকলে নতুন প্রজন্ম তো অপু-মামুন-আফ্রিদি-প্রত্যয়-মারুফ-রাফি-আলমদের গ্রিপে চলে যাবেই। বাসায় দাদি-নানী নেই, খেলার মাঠে যাওয়া বন্ধ, শিশুতোষ বই- ম্যাগাজিন পাচ্ছে না, টিভি চ্যানেলগুলো তাদের ভালো লাগাকে কেয়ার করে না—তাহলে তাদের সময় কাটবে কী করে? শরীরের জন্য যেমন খাদ্য লাগে, তাদের মেধা ও মননশীলতার বিকাশে তেমনি রুচিশীল বিনোদন পণ্য থাকাটা খুবই দরকার। আমরা সেটা বছরের পর বছর অবজ্ঞা করে যাব। আবার তাদের রুচিবোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলব—কাজটা কি ঠিক হবে?

সম্প্রতি টিকটক ও লাইকি বন্ধের দাবি উঠেছে। এটা শুনতে মুখরোচক হলেও বাস্তবসম্মত নয়।  আমাদের সমবয়সীদের নিশ্চয়ই মনে আছে ‘টেলিভিশন দেখা হারাম’—এমন বক্তব্য আমরা ছোটবেলা অসংখ্যবার শুনেছি। সেটাকে তখন বলা হতো ‘শয়তানের বাক্স’। কিন্তু এখন কেউ কি বলে—ইউটিউব বা ফেসবুক ভিডিও হারাম? এসব উৎসে প্রাপ্ত ভিডিও কনটেন্ট কি টিভির তুলনায় এতই ভালো যে এখন আর সমস্যা নেই! তাছাড়া একসময় লন্ডনে বসে বাংলাদেশী তরুণীদের ফটো কনটেস্ট আয়োজন করা হতো। ইমান-আকিদা-সংস্কৃতি ধ্বংসের অভিযোগে (নব্বইয়ের দশকে) তথাকথিত সেই ‘সুন্দরী প্রতিযোগিতা’ আয়োজনের বিরুদ্ধে বিশাল বিশাল মিছিল হতো।

এখন এ দেশের মাটিতে ‘মিস বাংলাদেশ’ কনটেস্ট হয়, ওয়েবসিরিজের নামে যা তা দেখানো হয়, কারা নাকি কাপড় ছাড়াই লাইভে আসে— কোনো প্রতিবাদ অনুষ্ঠানের কথা শুনেছেন? তাহলে হয় আমাদের চামড়া পুরু হয়েছে, নইলে দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেছে। তাই বন্ধ করা কোনো সমাধান নয়। আজ টিকটক বন্ধ হলে কালই ‘ফিকফক’ চালু হবে। আপনাদের জ্ঞাতার্থে বলি, এমনিতেই (মোদি ও ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের ফলে) টিকটক বেশি দিন প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে না। কিন্তু আমাদের শিশু-কিশোর-তরুণদের মনোজগতের বিকাশ ও সুস্থ বিনোদনের জন্য আমরা কী করছি, সেই প্রশ্নটা বড় হওয়া দরকার। অন্যদের দোষারোপ করার আগে নিজেদের দায়বোধ স্পষ্ট হওয়া জরুরি।

একবার ভাবুন, গত দুই দশকে আমাদের সন্তানদের সামনে এমন কী উপস্থাপন করা হয়েছে যে তারা অরুচিকর, অর্থহীন ওসব বিনোদন পণ্য বর্জন করবে? এমন একটা গানের কথা বলেন, যা এখনকার শিশুদের মনকে প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়েছে। ‘আমরা সবাই রাজা’ কিংবা ‘সাতটি রঙের মাঝে আমি মিল খুঁজে না পাই’…ওগুলো দ্বারা তারিন, ঈশিতা, শাওনদের প্রজন্ম মুগ্ধ হয়েছে। তাদের সন্তানদের জন্যও তো নতুন কিছু অফার করতে হবে, তাই না?

‘এমিলের গোয়েন্দাবাহিনী’ বা ‘দীপু নাম্বার টু’— এর মতো গত দশ বছরে হওয়া একটা শিশুতোষ মুভির নাম বলতে পারবেন? সত্যজিৎ রায় বিশ্বমানের পরিচালক হয়েও শিশুদের জন্য সিনেমা বানাতে পারেন। অথচ আমাদের নির্মাতারা সেদিকে তাকানোর ফুরসত পান না! আবার শিশু-কিশোরদের রুচি নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন, সেটা কি খুব যৌক্তিক হবে?

একসময় আমরা টিভিতে নতুন কুঁড়ির প্রতিযোগিতা দেখার জন্য উন্মুখ থাকতাম। নিজেদের টিভি না থাকায় অন্যের বাড়ির মেঝেতে বসে পরমানন্দে সেগুলো উপভোগ করতাম। তাছাড়া ভাবতাম নিজেদেরও তেমন একটা কিছু হতে হবে। এখনকার একটা অনুষ্ঠানের নাম বলতে পারেন, যা শিশুদের চুম্বকের মতো টানে? তারা কি দেশীয় কোনো শিল্পীর মতো হওয়ার স্বপ্ন দেখে? আমার জানা নেই। তাহলে শিশুরা কাদের অনুকরণ করবে? দুরন্ত টিভি এক্ষেত্রে দারুণ এক সূচনা করেছিল। কিন্তু এখন ইউটিউব সহজলভ্য হওয়ায় নিজেদের পছন্দের কনটেন্ট প্রোভাইড করে এমন চ্যানেলগুলোয় শিশুরা ঝুঁকে পড়ছে।

উপেক্ষিত টিনএজ মার্কেট
বইগুলো সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন…

ফেসবুকে প্রতিদিন এত লাইভ হয়। সেগুলোর কনটেন্ট কী? হয় রাজনীতি, না-হয় ধর্ম। দু-চারটে শিল্প-সাহিত্যের আলোচনা হয়, তবে তা সিনিয়রদের জন্য। বিনোদন মার্কেটের যে বিশাল এক অংশ শিশু ও কিশোর, তা আমরা দিব্যি ভুলে আছি। তাহলে ফাঁকফোকর দিয়ে ওসব অপসংস্কৃতি তো ঢুকবেই। সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার হলো, হাওড়ের বাঁধে প্রথমে ফাঁকফোকর দিয়েই পানি ঢুকে। তারপর গভীর রাতে প্রবল জোয়ার সব ভাসিয়ে দেয়। আমরাও কি নিজেরা উদাসীন থেকে শিশুদের মনোজগতে বিভিন্ন অপসংস্কৃতির অনুপ্রবেশের পথ সুগম করে দিচ্ছি না? প্রবল তোড়ে ভেসে যাওয়ার পরে তবেই কি হুঁশ ফিরবে? তখন বড্ড দেরি হয়ে যাবে না তো?

মো. আব্দুল হামিদ: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষক ও ‘মার্কেটিংয়ের সহজপাঠ’ বইয়ের লেখক। উৎস: বণিক বার্তা, ১১ আগস্ট ২০২০। লেখকের অনুমতি ছাড়া অন্য কোন মিডিয়ায় এই সাইটের লেখা প্রকাশ করা যাবে না।

 লেখকের পূর্ববর্তী নিবন্ধ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

Follow Me

error

করোনা সতর্কতায় কোন ছাড় নয়, প্লিজ