ব্যবসায়ের প্রকৃত সম্পদ — ৫

ব্যবসায়ের প্রকৃত সম্পদ — ৫

Robert T. Kiyosaki তাঁর The Business of the 21st Century বইয়ে আটটি সম্পদের কথা ব্যাখ্যা করেছেন। সেগুলো আপাতত আয় বাড়ায় কি না সেটা বড় কথা নয়, দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসায়ের প্রকৃত  সম্পদ বাড়ায়! বিষয়গুলো পড়ার সময় মনে হয়েছিল আমার নেটওয়ার্কে যুক্ত অনেকেই এবিষয়ে আগ্রহী হতে পারেন। তাই ধারাবাহিকভাবে সেগুলো ব্যাখ্যা করছি। আজ তার পঞ্চম পর্ব। এর আগের পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন। 

 Asset # 5 : A Duplicable, Fully Scalable Business

নিতুন কুন্ডু প্রতিষ্ঠিত অটবি’র ব্যবসায় সফলতা কী এখনো আগের মতো আছে? ফার্নিচার জগতে পথপ্রদর্শক এই প্রতিষ্ঠানটি কেন তার গতি হারালো? হয়ত বলবেন, যোগ্য উত্তরসূরীর অভাবে। কিন্তু আমার জানামতে, তাঁর সন্তান দেশের ও বিদেশের খ্যাতিমান সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থনীতি ও ব্যবসায় বিষয়ে পড়ালেখা করেছেন। তাহলে একজন কারুশিল্পী যে বিজনেস মডেল দাঁড় করালেন, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানেরা কেন সেটাকে ঠিক সেভাবে এগিয়ে নিতে পারছেন না?

খুব দুঃখজনকভাবে করোনাকালে দেশের ব্যবসায় জগতের বেশ কিছু আইকনকে (আব্দুল মোনেম, লতিফুর রহমান, নূরুল ইসলাম বাবুল) আমরা ইতিমধ্যে হারিয়েছি। সদ্য স্বাধীন দেশকে ঘুরে দাঁড়াতে, আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে যে মানুষগুলো বড়ো অবদান রেখেছিলেন সেই প্রজন্ম খুব দ্রুতই আমাদের মাঝ থেকে বিদায় নিচ্ছেন। ফলে সংশ্লিষ্টদের মনে প্রশ্ন জাগছে: তাদের অনুপস্থিতিতেও কী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে পারবে?

ব্যবসায় শিক্ষার্থীদের জন্য বই
বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন
এক্ষেত্রে আশার কথা হলো: মূল উদ্যোক্তা অনুপস্থিত থাকলেই ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান তার গতি হারায়– এই ধারণাটি সব সময় ঠিক নয়। আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে তো বটেই এমনকি আমাদের দেশেও এমন অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। স্যামসন এইচ চৌধুরী যে স্বপ্ন লালন করতেন, তাঁর সন্তানেরা হয়তো স্কয়ারকে তারচেয়েও ভালো অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছেন। অথবা আমজাদ খান চৌধুরীর মৃত্যুর পরে তাঁর সন্তানেরা প্রাণ কোম্পানির ব্যবসায় আরও সম্প্রসারণ করেছেন। স্যার ফজলে হাসান আবেদের অনুপস্থিতিতে ব্র্যাক ও আড়ং মোটেই হোঁচট খায়নি।

বিজনেসের একজন শিক্ষার্থী হিসাবে আমার মনে একটা প্রশ্নটা প্রায়শ ঘুরপাক খায়। সেটা হলো: প্রধান উদ্যোক্তার অনুপস্থিতিতে কেন কিছু ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান খারাপ করে, আবার অন্যগুলো প্রত্যাশার চেয়েও ভালোভাবে রান করে?

আলোচ্য বইয়ের ত্রয়োদশ অধ্যায়ে ব্যবসায়ের প্রকৃত সম্পদ সম্পর্কে পড়তে গিয়ে এর একটা যুৎসই জবাব পেলাম। হেনরি ফোর্ডের গাড়ি ব্যবসায়ে সফল হওয়া কিংবা ম্যাকডোনাল্ডসের গোটা দুনিয়ায় ছয় দশকের (১৯৫৫ সালে প্রতিষ্ঠিত) বেশি সময় ধরে সফলভাবে ব্যবসায় সম্প্রসারণ করার ব্যাখ্যার সাথে যার অনেকটাই মিল পাওয়া যায়। এমনকি রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকা বা না থাকার ব্যাখ্যাও মেলে। যেমন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, মাওলানা ভাসানীর মতো নেতা মাত্র এক প্রজন্মের ব্যবধানে এভাবে বিস্মৃত হয়ে গেলেন কেন?

আমরা নিজেরা যা স্বপ্ন দেখি বা করি– টেকসই হবার জন্য শুধু সর্বোত্তম উপায়ে সেই কাজটা করে যাওয়াই যথেষ্ঠ নয়। কারণ শারীরিক সীমাবদ্ধতা একসময় আমাদের থামিয়ে দেবে। তখন সেই স্বপ্নের কী হবে? যে সকল উদ্যোক্তা, রাজনৈতিক নেতা, আদর্শিক গুরু শুধু নিজে এক্সেল হবার চেষ্টা করেছেন; তাঁরা নিজেদের জীবদ্দশায় চরম সাফল্য পেয়েছেন। কিন্তু দৃশ্যপট থেকে অনুপস্থিত হবার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তাদের অতি কষ্টে দাঁড় করানো প্রতিষ্ঠান মুখ থুবড়ে পড়েছে। তাহলে কারা টিকে থাকেন, কেনই বা তাঁদের স্বপ্নের প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে চলে প্রত্যাশার চেয়েও ভালো গতিতে?

“It’s not a question of what you can do; it’s what you can do and then   what    others can do, too. You are the messenger, not the message.”…Robert T. Kiyosaki

কারণ তাঁরা নিজেদের স্বপ্ন, প্রত্যাশা ও কর্মপদ্ধতি অন্যদের সাথে শেয়ার করতেন। এমনকি তাদের দিয়ে প্রত্যাশামাফিক কাজ করিয়ে নিতেন। সারাজীবনে ধাক্কা খেয়ে শেখা অভিজ্ঞতা ও কর্মপন্থা শুধু নিজের মধ্যে না রেখে অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দিতেন। তিনি নিজে একটি কাজ যেভাবে করতে পছন্দ করেন, অন্যদের দিয়ে ঠিক সেই কাজটি করিয়ে নিতেন।

একদিকে স্টিভ জবসের সহকর্মীরা তাঁকে প্রচন্ড ভয় পেত; অন্যদিকে তাঁর সাথে কাজ করার সুযোগকে পরম সৌভাগ্য বলে গণ্য করত! কারণ তিনি যোগ্যদের সঠিক পদে বসিয়ে তাকে দিয়ে কাজ আদায় করে নিতেন। এভাবে সহকর্মীরা শিখত কীভাবে পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়ন করতে হয়। ফলে তার অনুপস্থিতিতেও অ্যাপল কিন্তু পুরোদমে গতিশীল রয়েছে!

তাই নিজের ভাবনা সংশ্লিষ্টদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া এবং লক্ষ্য অর্জনে তাদের উদ্বুদ্ধ করার মধ্যেই নিহিত রয়েছে ভবিষ্যতে টিকে থাকার বীজ। অন্যদের কাজ বা কৌশল শেখানোয় ঝুঁকি আছে সত্য, কিন্তু না শেখালেও কী ঝুঁকিমুক্ত থাকা যায়? তাই এটাকে দেখতে হবে রিলে রেসের মতো। আপনার হাতে যতক্ষণ ব্যাটন থাকবে, নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে পরবর্তী জনের হাতে দক্ষতার সাথে সেটা তুলে দেওয়াই গৌরবের। কারণ আপনি কারো সাথে কোন কিছু শেয়ার না করে সব বিদ্যা কবরে নিয়ে যাওয়ার মধ্যে কোন কৃতিত্ব নাই!

কোন প্রতিষ্ঠানে সত্যিই এই ধারা চর্চা করা গেলে, সংশ্লিষ্টদের মাঝে এর বহুমাত্রিক প্রভাব পড়ে। কারণ প্রতিষ্ঠানে একজন আউটস্ট্যান্ডিং হওয়ার চেয়ে দশজন মোটামুটি মানের হলে, মোটের ওপর বেশি সফলতা আসে। সবচেয়ে বড় কথা তাঁর (স্বাভাবিক বা অপ্রত্যাশিত) অনুপস্থিতিতেও সংশ্লিষ্ট উদ্যোগগুলো রান করতে থাকে।

ব্যবসায় চিন্তা ভাবনা

যারা মনে করেন, আমি না থাকলে এরা কিচ্ছু করতে পারবে না; কিংবা সব ধ্বংস করে ফেলবে! তাদের ‘ওয়ার্কিং অ্যাপ্রোচ’ ঢেলে সাজানোর দরকার আছে। কারণ এই বিশাল দুনিয়ায় আপনি মোটেই ‘অপরিহার্য’ নন। আপনার জন্মের আগেও এই পৃথিবী সুন্দরভাবে চলেছে; আপনার মৃত্যুর পরেও তার কোন ব্যাত্যয় ঘটবে না। তাই সবকিছু নিজে আঁকড়ে থেকে আমরা আসলে (নিজেদের অজান্তেই) উত্তরাধিকারীদের দক্ষ হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করি।

মূল উদ্যোক্তার অনুপস্থিতিতে যে সকল প্রতিষ্ঠান মুখ থুবড়ে পড়ে সেগুলোর অধিকাংশই এমন কারণদ্বারা প্রভাবিত। তারা পণ্যের উৎপাদন থেকে শুরু করে ক্রেতার হাতে পৌঁছা পর্যন্ত সবকিছুই নিজে তদারক করতেন। সব কৌশল নিজের মধ্যে রাখতেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানকে টেকসই করতে নিজের কল্পনা অন্যদের মাধ্যমে সম্পাদন করতে শেখাটা খুবই দরকার। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং মূলত এই জায়গাতে ফোকাস করে। আমি নিজে কষ্ট করে, অভিজ্ঞতা থেকে যা শিখলাম তা অন্যকে শেখাতে পারা এবং প্রয়োজনীয় কাজটি তাকে বা তাদের দিয়ে করানোর মধ্যেই রয়েছে দীর্ঘমেয়াদী কল্যাণ।

অনেকে ভাবেন, আমার বিজনেস সিক্রেট অন্যেরা জেনে গেলে তো, আমি ক্ষতিগ্রস্থ হবো। আপাতদৃষ্টিতে কথা ঠিক আছে। কিন্তু একমালিকানাধীন ছোট ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে সেটা (রাখ-ঢাক পদ্ধতি) কাজ করলেও প্রতিষ্ঠানের আওতা বাড়লে; কিংবা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে হস্তান্তর করতে হলে– তখন তার ভবিষ্যত কী হবে? অনেক পরিবারে বাবা তার সম্পদ বিষয়ে সন্তানদের পুরোপুরি অন্ধকারে রাখেন। কিন্তু কখনো ভাবেন না– তার মৃতুর পর তাদেরই তো সেগুলোর দেখভাল করতে হবে। তার অসম্পুর্ণ কাজগুলো সন্তানদেরই এগিয়ে নিতে হবে।

ব্যবসায় সংশ্লিষ্ট বই
বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

তাই তাদের সাথে কোন কিছু শেয়ার না করার ফলে তারা একদিকে হয় বিরক্ত অন্যদিকে থাকে অদক্ষ। ফলে সেই ব্যক্তির মৃত্যুর অল্পদিনের মধ্যেই সব সম্পদ ভূতে খায়! তাই নিজের সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থেই সন্তানকে বিভিন্ন পরিকল্পনা ও দায়িত্বপালনে সংশ্লিষ্ট করা উচিত। আর যদি সেটা কোনভাবেই সম্ভব না হয় তবে এমন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর দাঁড় করাতে হবে যেন সেটা টিকে থাকে। অর্থাৎ ব্যক্তি সেখানে গৌণ হয়ে ‘সিস্টেম’ কাজ করবে।

ম্যাকডোনাল্ডস, টেলিনর, ইউনিলিভারের কথা ভাবুন। কে, কোথায়, কবে এই ধারণাটির উদ্ভব ঘটিয়েছিল– তা কী আজকের বিজনেস অপারেশনে খুব জরুরি? আর সত্যিকারের সফল ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে বৈশিষ্ট্য হলো: অন্যেরা জানবে আপনি কীভাবে বেনিফিট তুলে নিচ্ছেন। কিন্তু তারা চাইলেও সেটা কপি করতে পারবে না। অন্যেরা কপি করলেও লোকে আপনার কাছ থেকেই সেই দ্রব্য বা সেবাটা নিতে চাইবে! আর এই কাজটা অধীনস্থদের বা উত্তরসূরীদের শেখানোটা খুব জরুরি।

একবার ভাবুন, আপনি সুস্থ থাকাবস্থায় অবসরে যাচ্ছেন। অন্যেরা আপনার স্বপ্নের প্রতিষ্ঠানকে আশাতীতভাবে এগিয়ে নিচ্ছে। চোখ বন্ধ করে যদি সেটা দেখতে পান তবে আপনি দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার বীজ ইতিমধ্যেই বপন করেছেন। পুরোপুরি সুস্থ অবস্থায় বিল গেটস অবসরে গেছেন। এতে কী তাঁর মর্যাদা কমেছে? তাহলে অধিকাংশ ব্যবসায়ী কেন ভয়ে থাকেন?

ব্যবসায়ের উজ্জ্বল উদাহরণ

Ray Kroc তার McDonald’s phenomenon তত্ত্বদ্বারা এই বিষয়টা দারুণভাবে প্রমাণ করেছেন। তিনি একটা মানসম্মত রেস্টুরেন্ট প্রতিষ্ঠা করে তা নিজ হাতে পরিচালনা করতেই পারতেন। কিন্তু তার দৃষ্টি ছিল অনেক প্রসারিত। তাই He designed the expertise right into the operation.

আমরা পরিবারের সম্পদের ব্যাপারে সন্তানদের সাথে লুকোচুরি খেলি যা এই ধারণার সম্পুর্ণ বিপরীত। আপনি হয় টিকে থাকবেন নইলে ধ্বংস হবেন– তাদের হাতেই। ফলে তাদের তৈরি করা, দায়িত্ব দেওয়া, ভুল হলে সংশোধন করার চর্চা নিয়মিত করা উচিত। কারণ আপনি নিশ্চয়ই মারা যাওয়ার আগে বলে যাবেন না যে, আমার সন্তান ‘অদক্ষ’ তাই সব সম্পদ দেখাশোনা করবে আমার প্রতিবেশীর সন্তানেরা, তাই না?

এক্ষেত্রে আমাদের দেশে বিগত কয়েক দশকে ঈর্ষণীয় সাফল্য পাওয়া একটি ব্যবসায় মডেল মাঝেমধ্যে আমাকে ভাবায়। স্বল্পমেয়াদে শহীদ আল বােখারী মহাজাতক তাঁর প্রতিষ্ঠিত কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনকে সফলতার যে উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, তা রীতিমতো শিল্পের পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। কিন্তু প্রকৃতির নিয়মেই তিনি যখন থাকবেন না; তখন এটাকে গতিশীল রাখার মতো যথেষ্ঠ লোক কী তৈরি হয়েছে? হয়তো করেছেন, তবে আমার জানা নেই।

রবার্ট কিয়োসাকির মতে, নিজে সবকিছু ম্যানেজ করার অনবদ্য দক্ষতা এই যুগে বেশ ভঙ্গুর এক সম্পদ! কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগেও ‘মানুষ’ অনন্য। কারণ মানুষ জীবন্ত নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারে। তাই বিচ্ছিন্নভাবে খুবই ব্যক্তিত্বশীল, উপস্থাপন দক্ষতাসম্পন্ন, নিয়মতান্ত্রিক ব্যক্তির চেয়েও মানুষের সাথে সম্পর্ক বাড়াতে পারে এমন ‘সাধারণ মানুষ’ দীর্ঘ মেয়াদে বেশি কার্যকর। কারণ দিনশেষে এই মানুষগুলোই আপনার ব্যবসায়ের প্রকৃত সম্পদ ও প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখবে। © Md. Abdul Hamid (মো. আব্দুল হামিদ)

[দায়মুক্তির ঘোষণা: এই সাইটে উল্লেখিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামগুলো শুধুমাত্র অ্যাকাডেমিক আলোচনার স্বার্থে প্রসঙ্গক্রমে এসেছে। কারো মান ক্ষুন্ন করা বা কাউকে ফেভার দেওয়ার লক্ষ্যে সেগুলো উচ্চারিত হয়নি। তারপরও যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন, লেখক তার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে]

Follow Me

error

করোনা সতর্কতায় কোন ছাড় নয়, প্লিজ