ব্যবসায়ের প্রকৃত সম্পদ — ৪

ব্যবসায়ের প্রকৃত সম্পদ — ৪

Robert T. Kiyosaki তাঁর The Business of the 21st Century বইয়ে ব্যবসায়ের আটটি সম্পদের কথা উল্লেখ করেছেন। সেগুলো আপাতত আয় বাড়ায় কি না সেটা বড় কথা নয়, দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসায়ের  সম্পদ বাড়ায়! বিষয়গুলো পড়ার সময় মনে হলো আমার নেটওয়ার্কে যুক্ত অনেকেই এবিষয়ে আগ্রহী হতে পারেন। তাই ধারাবাহিকভাবে সেগুলো ব্যাখ্যা করার ইচ্ছা আছে। আজ তার চতুর্থ পর্ব

Asset # 4 : The power of your own network

টমাস আলভা এডিসনের নাম আমরা সবাই জানি। তিনি কেন বিখ্যাত, বলুন তো?
রাইট। বৈদ্যুতিক বাল্বের আবিষ্কারক। কিন্তু এটা নিয়ে বেশ বিতর্ক রয়েছে। দাবী করা হয়, তার আগেই বাল্ব আবিষ্কার হয়েছিল। তাহলে স্বভাবতই মনে প্রশ্ন জাগে: তিনি লাইমলাইটে আসলেন কী করে?

Robert T. Kiyosaki এর মতে তিনি এখাতে অমর হবার প্রধান কারণ হলো…he figured how to turn it into a business. অর্থাৎ আগে যারা এটা নিয়ে কাজ করেছিলেন তারা ল্যাবে সফল হলেও ধারণাটি সফলভাবে বাজারের চাহিদার সাথে খাপ খাওয়াতে পারেননি। অথচ এডিসন পণ্যের বৈশিষ্ট্যে সামান্য কিছু উন্নয়ন করলেও আসল কাজটি করেছিলেন মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে!
কীভাবে সেটা সম্ভব হলো?

বইগুলো সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন…

স্কুল থেকে ড্রপআউট হওয়ার পরে তিনি রেলস্টেশনে চকলেট ও ম্যাগাজিন বিক্রি শুরু করেন। দীর্ঘদিন কাজ করেন সংবাদপত্রের হকার হিসাবে। তারপর টেলিগ্রাফ অপারেটরের চাকরি। এভাবে প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি নতুন নতুন মানুষের সাথে মিশেছিলেন এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। একপর্যায়ে নিজেই একটা প্রতিষ্ঠান দাঁড় করান। সেখান থেকে সংবাদপত্র ছাপা এবং সংশ্লিষ্ট পণ্যের ব্যবসা শুরু করেন। সর্বোপরি টেলিগ্রাফ অপারেটর হিসাবে দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষের সাথে তার এক ধরণের সম্পর্ক গড়ে ওঠেছিল।

বৈদুতিক বাল্বের ক্ষেত্রে তিনি সেই নেটওয়ার্ক কাজে লাগান এবং প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সফলতা পেতে থাকেন। হয়ত সে কারণেই লেখক বলেছেন, “The richest people in the world build networks. Everyone else looks for work.”

Sam Walton (Walmart), Bill Gates (Microsoft) কিংবা Jeff Bezos (Amazon) সফল হবার পেছনেও কাজ করেছে এই দর্শন। কারণ Sam নিজে কোন পণ্য উৎপাদন করেননি কিন্তু এমন একটা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন যা ওয়ালমার্টকে দুনিয়ার সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে। ঠিক তেমনিভাবে Jeff Bezos নিজে কোন বই পাবলিশ করেন না; কিন্তু দুনিয়ার সবচেয়ে বড় বই ব্যবসায়ী হয়েছেন। আবার Bill Gates নিজে কম্পিউটার তৈরি করেন না। কিন্তু তার সার্ভিস ছাড়া (প্রায়) গোটা দুনিয়ার কম্পিউটারগুলো সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না!

বর্তমান সময়ে উবার বা পাঠাও ঠিক এই কাজটিই করছে। তাদের নিজেদের মালিকানাধীন একটা গাড়ি না থাকলেও তারা প্রতিদিন লাখো যাত্রীকে সেবা দিচ্ছে! এই সবের মূলে রয়েছে সুবিধাভোগী পক্ষগুলোর মধ্যে গড়ে ওঠা শক্তিশালী নেটওয়ার্ক।

The power is not in the product; the power is in the network. If you want to become rich, the best strategy is to find a way to build a strong, viable, growing network.

Metcalfe’s Law অনুযায়ী নেটওয়ার্কে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ বাড়ে জ্যামিতিক হারে। যেমন: সারা দেশে যদি একটা টেলিফোন থাকে তবে আদতে তার কোন মূল্য নাই। সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য তা কোন ভ্যালু অ্যাড করতে সক্ষম হবে না। কিন্তু সেখানে আরেকটি ফোন যুক্ত হলেই তা কাজ করতে শুরু করবে। আর যদি দশটা ফোন হয়, তবে কত গুণ ভ্যালু অ্যাড হওয়া সম্ভব? এভাবে হাজার বা লক্ষ ফোন পরস্পর যুক্ত হলে?

হুমায়ূন আহমেদ : বাংলার মার্কেটিং গুরু

প্রথমদিকে, বহুজাতিক কোম্পানিগুলো একটি কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে পুরোপুরি ম্যানেজ হলেও গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকে নতুন ধারা সূচিত হয়। তখন উৎপাদন, বণ্টন, এমনকি ব্যবস্থাপনা বিকেন্দ্রীভূত করা শুরু হয়। ফলে তখন সাবসিডিয়ারিগুলো জাস্ট একটা নেটওয়ার্কের মতো কাজ করতে থাকে। এই ধারাকে আরও গতিশীল করতে Franchise ধারণার উদ্ভব হয়। এরই পরবর্তী ধাপ হলো নেটওয়ার্ক মার্কেটিং।

আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে এর বেস্ট উদাহরণ হলো– গুজব! একজন মানুষ কোথা থেকে কীভাবে একটা কথা ছড়িয়ে দিল আর তা মূহুর্তের মধ্যে গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ল! ভালো কাজে এটা ব্যবহার করার প্রক্রিয়াই হলো নেটওয়ার্ক মার্কেটিং। অবশ্য আমাদের দেশে এমএলএম কোম্পানিগুলো এই মডেলের অপব্যবহার করায় অনেক মানুষই এটাকে নেতিবাচকভাবে দেখেন।

তবে আধুনিক বিশ্বে শুধু পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রয় চেষ্টা অনেকক্ষেত্রেই কাজ করে না। তাই বলা হয়, আপনি সম্ভাব্য ক্রেতাদের সাথে যুক্ত হোন, দক্ষতার সাথে প্রয়োজনীয় তথ্য (উপযোগ/ভ্যালু/উপকারিতা/ব্যবহার) সরবরাহ করুন। গল্প বা উপমার মাধ্যমে বিশ্বস্থতার সাথে সেটা করতে পারলে, দীর্ঘমেয়াদে আপনার লক্ষ্য অর্জন হওয়া খুবই সম্ভব। © Md. Abdul Hamid (মো. আব্দুল হামিদ)

Source: Robert T. Kiyosaki, John Fleming, and Kim Kiyosaki. The Business of the 21st Century. (Texas: DREAMBUILDERS, 2010): 59-63.

Follow Me

error

করোনা সতর্কতায় কোন ছাড় নয়, প্লিজ