হুমায়ূন আহমেদ : বাংলার মার্কেটিং গুরু
হুমায়ূন আহমেদ

হুমায়ূন আহমেদ : বাংলার মার্কেটিং গুরু

Summary:

Wafer cake sweet roll cheesecake ice cream gingerbread sweet. Wafer gingerbread apple pie cotton candy jelly. Toffee oat cake oat cake toffee tootsie roll muffin sugar plum.

হাইস্কুলে পড়াকালে একটা কার্টুন খুব আলোচিত হয়। সেটার বিষয়বস্তু ছিল  ̶  এক ব্যক্তি চার হাত-পা দিয়ে উপন্যাস লিখছেন; পাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বেশ কিছু ব্ল্যাঙ্ক চেক! ইন্টারনেট ও স্যাটেলাইট চ্যানেলপূর্ব সে যুগে সংবাদপত্রগুলোর ঈদসংখ্যা খুব সমৃদ্ধ কলেবরে বের হতো। সেগুলোর প্রত্যেকটিতে আবার কয়েকটা করে পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস ছাপার রেওয়াজ ছিল। সেখানে একজনের উপন্যাস থাকাটা ক্রমেই হয়ে উঠেছিল অপরিহার্য। কার্টুনিস্ট সম্ভবত সেই লেখককেই ইঙ্গিত করেছিলেন। তিনি হলেন — হুমায়ূন আহমেদ ।

ইচ্ছে করেই নামের আগে কোনো বিশেষণ যোগ করিনি। কারণ বহুমাত্রিক এই প্রতিভার জন্য খুব সম্ভবত একক কোনো গুণবাচক শব্দই যথেষ্ঠ নয়। হাতখুলে লিখতে কিংবা দেদারসে নাটক-সিনেমা বানাতে অনেকেই পারে। কিন্তু তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার যুগে সেগুলো টার্গেট মার্কেটের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলাটাই আসল চ্যালেঞ্জ। যেটা তিনি করেছেন অনায়াসে, অনেকটা হেসেখেলে। সফলতা পেয়েছেন প্রত্যাশার চেয়েও ঢের বেশি। কী ছিল সেই সফলতার রহস্য? ব্যক্তি হুমায়ূন কিংবা তাঁর সৃষ্টিশীল কাজের গুনাগুণ বিশ্লেষণ করা মোটেই আমার কাজ নয়। বরং মার্কেটিংয়ের একজন শিক্ষার্থী হিসাবে বুঝতে চেষ্টা করেছি এই ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জনের পথে তিনি সাধারণত কোন ধরণের বিপণন কৌশল ব্যবহার করেছেন। এ-সংক্রান্ত বিশ্লেষণ উপস্থাপন করাই নিবন্ধটির উদ্দেশ্য।

‘মার্কেটিং গুরু’ উপাধিটা আমরা বাজারজাতকরণ শাস্ত্রের তাত্ত্বিক নেতা ‘ফিলিপ কটলার’-এর নামের আগে শুনতেই অভ্যস্থ। হঠাৎ কেমিস্ট্রি পড়া বাঙালি এক ভদ্রলোকের নামের সাথে সেই অভিধাটি কেন যুক্ত করলাম  ̶  সে প্রশ্ন খুবই সঙ্গত। তবে যে দেশের উচ্চশিক্ষিত লোকেরাও (ব্যতিক্রম ছাড়া) বাধ্য না হলে পড়াতো দূরের কথা, বই নেড়েচেড়েও দেখে না; সেখানে শুধুমাত্র লেখালেখিকে পেশা হিসেবে নেবার জন্য বুকের পাটা থাকতে হয় বৈকি! এখানে পুরোদস্তুর লেখালেখিতে সংশ্লিষ্টরাও বিকল্প কোনো সম্মানজনক (এবং মাসিক নিশ্চিত আয়ের) পেশায় যুক্ত থাকতে চান।

অথচ হুমায়ূন আহমেদ নিজের পণ্যের বাণিজ্যিক সফলতার ব্যাপারে এতোটাই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার মতো পেশা ছেড়ে দিতেও দ্বিধা করেননি। তিনি শিশুতোষ গ্রন্থ, ছোটগল্প, সায়েন্স ফিকশন, গান, স্মৃতিকথা, নাটক, সিনেমা, উপন্যাস — যা করেছেন তাই পেয়েছে ঈর্ষণীয় গ্রহণযোগ্যতা। দৃশ্যমান কোনো প্রমোশন ছাড়াই প্রতিটি সৃষ্টিকর্ম হয়েছে ব্যাপকভাবে সমাদৃত ও ব্যবসা সফল। তাঁর বিশেষ কৃতিত্ব হলো — বড় একটা গোষ্ঠীকে বই (পড়া, কেনা, উপহার দেওয়া) বিষয়ে আগ্রহী করে তুলতে পেরেছেন। ফলস্বরূপ রুগ্ন প্রকাশনা শিল্পেও এসেছে লক্ষণীয় গতি।

সেবা জাতীয় পণ্য মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে প্রধানত দুটো ধারা লক্ষ করা যায়। প্রথমত, বিদ্যমান চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে মার্কেটার পণ্য উৎপাদন করে ক্রেতার সামনে হাজির হয়। নিত্যব্যবহার্য দ্রব্যাদি কিংবা ট্র্যাডিশনাল বাংলা সিনেমার ক্ষেত্রে যেটি বহুল ব্যবহৃত রীতি। অপরদিকে, খুব কম সংখ্যক মার্কেটার ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে নিজেদের পণ্যের স্বতন্ত্র মার্কেট (ক্রেতাগোষ্ঠী) গড়ে তুলতে সচেষ্ট হন। পরবর্তীতে ক্রেতারা সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম দেখেই পণ্যগুলো কেনে। বাংলা সাহিত্যের কারবারী জগতে হুমায়ূন আহমেদ নিঃসন্দেহে পরবর্তী ধারার স্রষ্ঠা।

পাঠক বুকস্টলে গিয়ে হুমায়ূন আহমেদের নতুন কী আছে — তা জানতে চায়। এমনকি তাঁর মৃত্যুর এতবছর পরের বইমেলাতেও এই প্রশ্নটি বারংবার এবং জোরেশোরে উচ্চারিত হয়! অন্য আঙ্গিকে বলা যায় — কিছু মার্কেটার বিশ্বাস করে পণ্যের গুণগত মানটাই আসল। সেটা যুৎসই হলে বিক্রেতা জঙ্গলে বসে থাকলেও ক্রেতারা তাদের খুঁজে বের করবে। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার কিংবা গুণী হস্তশিল্পীর ক্ষেত্রে যেটা প্রায়শ দেখা যায়। অপরদিকে, অধিকাংশ মার্কেটারের ধারণা হলো ̶ প্রমোশনটাই আসল কথা; অর্থাৎপ্রচারেই প্রসার! ফুটপাতের হকার থেকে শুরু করে অসংখ্য বহুজাতিক কোম্পানীও এই ধারার চুড়ান্ত অনুসারী। এখন কথা হলো — হুমায়ূন আহমেদের কাটতির পেছনে কোন ফর্মুলাটি কাজ করেছে? নাকি তার ছিল স্বতন্ত্র কোন কৌশল?

পোস্ট ক্রাইসিস বিজনেস

 

বই-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ‘বেস্ট সেলার’ ধারণাটি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত হলেও ‘বেস্ট রিটেন’ বই বলে আজ পর্যন্ত কোনো টার্ম চালু হয়নি। অর্থাৎ বিক্রয়ের পরিমাণ প্রকাশনা শিল্পে বড় একটা মানদণ্ড! তাছাড়া কেনার আগে যাচাই করার সুযোগ না থাকায় ক্রেতারা প্রায়ই বহুল বিক্রিত বই কিনতে ও পড়তে উদ্বুদ্ধ হন। যেমন  ̶ এবারের (২০১৭) বইমেলায় এক তরুণের প্রকাশিত বই নাকি সর্বাধিক পরিমাণে বিক্রি হয়েছে। তথ্যটা জানার পরে বেশ আগ্রহ নিয়ে সেটা সংগ্রহ করলাম এবং পড়তে চেষ্টা করলাম।

একাডেমিক বইয়ের বাইরে আমাদের দেশে  (সম্ভবত) সবচেয়ে বেশি বই প্রকাশ হয় ধর্ম ও রাজনীতি বিষয়ক। লেখক তার দুটোই ব্যবহার করেছেন যা উঠতি লেখকদের জন্য খুব একটা কল্যাণকর হয় না। হুমায়ূন আহমেদ তার সৃষ্টিকর্মের অধিকাংশক্ষেত্রে দক্ষতার সাথে এই দুটো বিষয়কেই পাশ কাটিয়ে গেছেন। জীবন সায়াহ্নে এসে, সফলতার চরম শিখরে বসেও ‘দেয়াল’ লিখতে গিয়ে তাকে যতোটা ঘাম ঝরাতে হয়েছে সম্ভবত ইতিপূর্বে কোনো সৃষ্টিকর্মের ক্ষেত্রে তা হয়নি! মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সাহিত্য-চলচ্চিত্রে তাঁর অবস্থান ছিল খুব স্পষ্ট এবং বলিষ্ঠ।

হুমায়ূন আহমেদের লেখালেখির মান অথবা বিষয়বস্তু নিয়ে সমালোচনা — বেশ পুরোনো ইস্যু। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ জীবদ্দশায় তাঁকে পাত্তাই দেয়নি; এলিট শ্রেণীর সাহিত্য আড্ডাতেও ছিলেন অপাক্তেয়। শুধুমাত্র পয়সার জন্য লেখার কথা অকপটে স্বীকার করে তিনি সেটা আরো উস্কে দিয়েছেন।

অন্যদিকে অতিমাত্রায় লেখার প্রবণতাকে ‘অপন্যাস’ কিংবা ‘ইতর প্রাণী প্রসব করে বেশি’ বলে হেয় করার চেষ্টাও হয়েছে। ‘সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে’ গ্রন্থটি তাঁকে উৎসর্গ করার মাধ্যমেও বিশেষ কিছু ঈঙ্গিত করা হয়েছে। জবাবে তিনি নির্দ্বিধায় বলেছেন ‘আমি নিজে লিখে আনন্দ পাই এবং এমনভাবে লেখার চেষ্টা করি, যাতে করে পাঠক পড়ে আনন্দ পায়; জ্ঞান দেওয়ার কিছু নেই।’

মজার বিষয় হলো — সেই পন্ডিতদের অনেকেই যখন পাণ্ডুলিপি নিয়ে নানা জায়গায় ধর্না দিতেন ঠিক তখনই নামী-দামী প্রকাশকেরা ব্ল্যাঙ্ক চেক নিয়ে হাজির হতেন হুমায়ূনের দরজায়! একটা পাণ্ডুলিপি পাওয়ার জন্য বছরব্যাপী তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতেন। বাজার অর্থনীতিতে এই বিষয়টাকে খাটো করে দেখার সুযোগ আছে কি? প্রকাশকেরা খুব ভালো করেই বুঝতেন প্রচ্ছদে কার নাম দেখামাত্রই পাঠক হুমড়ি খেয়ে পড়বে। ক্রেতার সুপ্ত আকাঙ্খাকে তিনি পণ্যে যথাযথভাবে প্রতিফলিত করতে পারতেন বলেই হয়তো এমনটা হতো। ক্রেতাদের মুখেমুখে ছড়িয়ে পড়ত তাঁর নবসৃষ্টির গুণগান; হতো বিক্রির রেকর্ড! উৎপাদন পর্যায়েই তিনি আসল কাজটা এমনভাবে সম্পন্ন করতেন যে মার্কেটিংয়ের অন্যান্য উপাদান নিয়ে প্রকাশকদের খুব একটা ভাবতে হতো না।

আমাদের চারপাশে নিয়ত ঘটমান বিষয়াবলীর সহজ-সরল ও প্রাঞ্জল উপস্থাপনা তাঁকে করেছে অনন্য। কবিগুরু বলেছিলেন “সহজ কথা সহজ করে বলতে আমায় কহো যে, সহজ কথা যায় না বলা সহজে”। হুমায়ূন আহমেদ এক্ষেত্রে প্রায় প্রতিটি সৃষ্টিকর্মে যে মুন্সীয়ানার পরিচয় দিয়েছেন তা সত্যিই বিরল। চিরচেনা বিষয়গুলোতেও তিনি দিতে পারতেন নতুনত্ত্বের ছোঁয়া। তাঁর উপন্যাসের রহস্যময় চরিত্রগুলো বাস্তব সমাজে অবাঞ্ছিত হলেও পাঠককে করত তীব্রভাবে আকর্ষণ। সামগ্রিক কর্মকান্ডে সামঞ্জস্যপূর্ণতা (ভন্ডামীর আশ্রয় না নেওয়া) তাঁকে বসিয়েছে গুরুর আসনে।

অন্যদিকে, বাজার বিভক্তিকরণের কৌশলও প্রয়োগ করেছেন সুনিপুণভাবে। হিমু, মিসির আলী, শুভ্রসহ প্রতিটি সিরিজের স্বাতন্ত্র্যকে আমৃত্যু কঠোরভাবে বজায় রেখেছেন। নিজের জীবনের খুুঁটিনাটি বিষয়কে লেখায়-কথায় এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন যা পাঠকের কৌতুহল মেটানোর পাশাপাশি তুলে ধরেছে তাঁর শিশুসুলভ সারল্য। তুলনামূলকভাবে চড়া দামেই বিক্রি হয়েছে তার সৃষ্টিকর্ম, চাহিদায় কখনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। ক্লাস এইটে পড়াকালে ‘আমার ছেলেবেলা’ হাতে নিয়ে সেই যে ভক্ত বনে গেলাম — পরবর্তীতে সুযোগ ছিল অথচ তাঁর লেখা পড়িনি, এমনটা হয়নি। হয়তো আমাদের সময়ের বইপোকাদের অধিকাংশের অভিজ্ঞতাই এমন। সবচেয়ে বড় কথা হলো…বই বিমুখ প্রজন্মকে গাঁটের পয়সা খরচ করে বই কেনানোর যে দক্ষতা হুমায়ূনের ছিল — সেটা অতুলনীয়।

খুব প্রচলিত ধারণা হলো — কোনো লেখক, গবেষক বা নির্মাতা বেশিমাত্রায় সৃষ্টিশীল কাজে মনোযোগী হলে তার কাজের ‘মান’ পড়ে যায়। হয়তো সে কারণেই স্টিভেন স্পিলবার্গ কিংবা আমির খানের মতো গুণীব্যক্তিরাও বছরে দু-একটার বেশি কাজ করেন না। কিন্তু হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন এই ধারার পুরোপুরি ব্যতিক্রম। বিশেষত শিক্ষকতা ছাড়ার পরে তিনি প্রতি মুহুর্ত সৃষ্টিশীল কাজে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। কিন্তু মান নিয়ে কখনও দর্শক-শ্রোতার মধ্যে নেতিবাচক গুঞ্জন শোনা যায়নি। চারদশকব্যাপী (১৯৭২-২০১২) সমানতালে অবদান রেখেছেন তাঁর কাজের আঙ্গিনায়। প্রতিটি নতুন সৃষ্টিই যেন পূর্ববর্তী কাজকে ছাপিয়ে গেছে।

এক সময় কলকাতা কেন্দ্রীক লেখকদের যে দোর্দন্ড প্রতাপ ছিলো তাতে দৃশ্যমানভাবেই আঘাত হানতে সক্ষম হয় হুমায়ূনের সৃষ্টিকর্ম। বিভূতিভূষণ, সুনীল, শীর্ষেন্দু, সমরেশ বসু, সমরেশ মজুমদার, মহাশ্বেতা, মনিশংকর প্রমুখের লেখা পড়াটাই যখন বাংলাদেশের পাঠকদের নিয়তি বলে ধরে নেওয়া হচ্ছিল; ঠিক তখনই তিনি স্বতন্ত্র এক ধারার লেখনি নিয়ে এলেন এবং জয় করলেন। সেই জয়ের একদিকে ছিল বিশাল মার্কেট অপরদিকে ছিল লাখো পাঠক-দর্শক-শ্রোতার হৃদয়! আধুনিক মার্কেটিং শেখায় — দীর্ঘমেয়াদে সফল হতে শুধু ‘মার্কেট শেয়ার’ নয় বরং‘ক্রেতার হৃদয়’ দখল করা দরকার। তিনি যেন হাতেকলমে সেটাই করে দেখালেন! তাঁর বই কলকাতা বইমেলা ও বুকস্টলগুলোতেও পেয়েছে লক্ষণীয় সাড়া। পশ্চিমবঙ্গের ট্রেন, বাস, ফুটপাতে হকাররা একসময় হুমায়ূন আহমেদের বই ডেকে-হেঁকে বিক্রি করেছে যা বাংলাদেশী কোন লেখকের সফলতার উজ্জ্বলতম দৃষ্টান্ত।

সেবা পণ্য মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো — দক্ষ ও যোগ্য মানুষ (কর্মী বা কারিগর) তৈরি করা। এক্ষেত্রেও তিনি চমৎকার উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। তরুণ এক সাংবাদিক ইন্টারভিউ নিচ্ছে, তিনি বুঝলেন — ছেলেটার অভিনয় প্রতিভা দারুণ! তাকে কাজে লাগালেন এবং আমরা পেলাম মাহফুজ আহমেদের মতো দুর্দান্ত এক অভিনেতাকে। এমনিভাবে ডাক্তার, মুদি দোকানদার, কুলি, রিক্সাওয়ালা অনেকেই তাঁর হাতের ছোঁয়ায় পরিণত হয়েছে দক্ষ অভিনেতায়। যখন অন্যেরা অভিযোগ করে — দেশে দক্ষ স্ক্রিপ্ট রাইটার, প্রযোজক, পরিচালকের প্রচন্ড অভাব। তিনি ক্রমান্বয়ে সবগুলো ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন এবং দারুণ সফলতা পেলেন।

ফলে ভবিষ্যতে হুমায়ূন আহমেদকে শুধুমাত্র একজন ঔপন্যাসিক বা নাট্যকার হিসেবে মূল্যায়ন করলে তাঁর প্রতিভার প্রতি সুবিচার করা হবে কি? সর্বোপরি কথা হলো  ̶  লেখকদের হতদরিদ্র দশাই যেখানে নিয়তি বলে ভাবা হতো সেখানে হুমায়ূন আহমেদ দেখিয়েছেন কীভাবে দক্ষতার সাথে মার্কেটিংকে ব্যবহার করে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করা যায়। তাই ক্লাসে ছাত্র-ছাত্রীদের বলি: তাঁর জীবন ও কর্ম থেকে মার্কেটিংয়ের লোকদের শেখার আছে অনেক কিছু।  ২০১২ সালে তিনি আমাদের ছেড়ে গেছেন। যেখানেই থাকুন, খুব খুব ভালো থাকুন…আমাদের প্রিয় হুমায়ূন আহমেদ!

মো. আব্দুল হামিদ: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। মার্কেটিংয়ের সহজপাঠ বইয়ের পঞ্চম অধ্যায় থেকে সংকলিত। © Md. Abdul Hamid (মো. আব্দুল হামিদ)

ভালো লাগলে বন্ধুদের বলুন, মন্দ লাগলে আমাদের জানান

Leave a Reply

Follow Me

আপনার মস্তিষ্কের মালিকানা বুঝে নিন…

মস্তিষ্কের মালিকানা
error

করোনা কিন্তু করুণা করে না!!!

mahamid.biz@gmail.com
WhatsApp