প্রত্যেক ছাত্রই সেলসম্যান!

প্রত্যেক ছাত্রই সেলসম্যান!

Summary:

Wafer cake sweet roll cheesecake ice cream gingerbread sweet. Wafer gingerbread apple pie cotton candy jelly. Toffee oat cake oat cake toffee tootsie roll muffin sugar plum.

বছর দশেক আগের কথা। বিক্রয় পেশা সংক্রান্ত আলোচনায় ক্লাসে যখন বললাম–আসলে তোমরা প্রত্যেকেই এক একজন বিক্রয়কর্মী। মার্কেটিংয়ের শিক্ষার্থী হওয়ার পরেও তারা কিছুটা বিস্ময়ের সাথে পরস্পরের দিকে তাকাতে শুরু করল! অর্থাৎ কথাটা তাদের প্রচলিত ভাবনার সাথে যাচ্ছে না। একজন সাহস করে বলেই ফেলল–কিন্তু স্যার, আমরাতো কোনো পণ্য কিনে তার সাথে মুনাফা যুক্ত করে বিক্রি করতে চেষ্টা করি না। তাহলে বিক্রয়কর্মী হলাম কীভাবে?

আমি সরাসরি জবাব না দিয়ে তার কাছে জানতে চাইলাম–আচ্ছা, একজন ভিক্ষুক কী কোনো পণ্য বিক্রি করে? সে দৃঢ়তার সাথে বলল–না। আমি বললাম–তাহলে তাকে মানুষ টাকা দেয় কেন? তাছাড়া একজন রাজনীতিবিদ, আইনজীবী, শিক্ষক, রিকশাওয়ালা, কন্ঠশিল্পী সবাই কী একেকজন বিক্রেতা নয়? সে তখনো বিষয়টা ধরতে পারছিল না। তাই অন্যদের আলোচনায় উৎসাহী করতে আমি আরও কিছু সম্পুরক প্রশ্ন উত্থাপন করলাম।

আসলে দুনিয়াতে কেউ কিছুই ফ্রিতে বা মাগনা করে না। আর বিক্রয় হলো পৃথিবীর আদিমতম পেশাগুলোর একটি। এমনকি মুদ্রা বা লেনদেন প্রথা উদ্ভবেরও আগে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়। তা নানাভাবে আকার বদলেছে। প্রযুক্তির ব্যাপক বিকাশের কারণে এখন তা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেকে এর সুবিশাল আওতা সম্পর্কে কল্পনাও করতে পারে না। কিন্তু এই পেশার যে মৌলিক উপাদান তা কিন্তু আজও অক্ষুন্ন রয়েছে। অর্থাৎ মানুষ তার যা উদ্বৃত্ত পণ্য বা অব্যবহৃত দক্ষতা রয়েছে–সেটা যার প্রয়োজন তাকে দিতে চেষ্টা করে। বিনিময়ে নিজের যে জিনিসের অভাব রয়েছে–তা পেতে সচেষ্ট হয়।

আদিকালে একজন হয়ত মাছ শিকার করত, আরেকজন ফল সংগ্রহ করত। দিনশেষে মাছ শিকারী ফলের স্বাদ পেতে চাইলে নিজের উদ্বৃত্ত মাছ তাকে অফার করত। যদি ফল শিকারীরও তখন মাছ খাওয়ার ইচ্ছা হত–তবেই বিনিময় হত। নইলে ভিন্ন পেশার লোকদের খুঁজে বের করে তাদের চাহিদা পূরণে নিজের পণ্যটি অফার করত। আজও আমরা ঠিক সেই কাজটিই করছি। তবে মাঝখানে অনেগুলো পক্ষ ঢুকে গেছে। তারাও যে শখ করে এসেছে, ব্যাপারটা তেমন নয়। তাদেরও যে বিষয়ে সামর্থ্য বা দক্ষতা রয়েছে তারা সেটা চলমান সিস্টেমে যুক্ত করে নিজেরাও সেখান থেকে উপকৃত হতে চেষ্টা করছে।

কথাটা বুঝতে সমস্যা হলে, আরেকটু সহজ করে বলি। একজন ডাক্তারের রোগ সারানো বিষয়ে রোগীকে সাহায্য করার দক্ষতা আছে। অন্যদিকে, একজন অসুস্থ মানুষের রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া দরকার। তাই তারা সেই ডাক্তারের শরণাপন্ন হচ্ছে। উভয়ের ‘গিভ এন্ড টেক’ যখন এক বিন্দুতে মিলে যায়–আসলে তখনই লেনদেন হয়। যেকোনো বস্তুর দামের ক্ষেত্রে এই একই কথা প্রযোজ্য। রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য হু হু করে বাড়ে। আমরা খুব সমালোচনা করি, ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করি। এখন যেমন প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম হয়েছে আড়াইশ টাকা যা একমাস আগেও ছিল ৪০/৪৫ টাকা। সবাই ক্ষোভ প্রকাশ করি। কিন্তু কেউ ভোগের ক্ষেত্রে লাগাম টানি না। ফলে চাহিদা থাকায় উচ্চমূল্যেও পণ্য বিক্রি হতে থাকে। এটা অত্যন্ত জটিল একটা প্রক্রিয়া; প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আমরা সবাই এর সাথে যুক্ত।

এবার আসি একজন শিক্ষার্থী কীভাবে বিক্রয়কর্মীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। তার পেশা হলো–ছাত্র। তার কাজ–পড়ালেখা ও নির্দেশিত কাজগুলো সম্পাদন করার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করা। কেন সেটা করতে হয়–আমাদের দেশে প্রধানত পরীক্ষায় পাশের জন্য। পাশ কেন করতে হয়–চূড়ান্ত ডিগ্রি বা সনদ পাওয়ার জন্য, তাই না? এবার এই প্রক্রিয়াটি বিক্রয় পেশার কাঠামো অনুসারে চিন্তা করলেই হিসাব মিলে যাবে। তার পণ্য কী–সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অর্জিত জ্ঞান। কীভাবে সেটা বণ্টন করে–ক্লাশে আলোচনায় অংশ নিয়ে, অ্যাসাইনমেন্ট বা টিউটোরিয়াল সম্পন্ন করে, পরীক্ষার উত্তরপত্রে লিখে, প্রয়োজনীয় রিপোর্ট ও প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে। বিনিময়ে মূল্য হিসাবে কী পায়–নম্বর বা গ্রেড। ক্রেতা কে–সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষক বা পরীক্ষক সর্বোপরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তার পণ্যের মান যত ভালো হয় সে তত উচ্চদামে সেটা ক্রেতাদের কাছে বিক্রয় (গ্রহণযোগ্য) করতে পারে।

কেউ বলতে পারে–সেক্ষেত্রে তো সবসময় ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার শঙ্কা থাকে। সেটা অস্বীকার করছি না। কিন্তু মার্কেট মেকানিজমে অন্যান্যক্ষেত্রেও কী সেটা বিদ্যমান নয়? ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়া, কোরবানির চামড়া পানির দামে বেচা–এগুলো কেন হয়? কারণ মার্কেট ব্যবস্থাপনা এমন যে, নির্ধারিত ক্রেতাদের কাছেই সেগুলো বিক্রয় করতে হয়। অন্যেরা সেগুলো কিনেও খুব একটা সাহায্য করতে পারে না।মার্কেট কন্ডিশন যদি Monopoly হয় বা Oligopoly — তাহলে একটু সমস্যা থাকেই। শিক্ষার্থীদের পণ্যের ক্রেতা যেহেতু সুনির্দিষ্ট। সেহেতু সেখানে কিছুটা বৈষম্য হয়–অস্বীকার করছি না। আমাদের ছাত্রজীবনেও এমন অসংখ্য ঘটনার মধ্য দিয়ে বৈতরণী পার হতে হয়েছে। তাই জ্ঞান যদি কোর প্রোডাক্ট হয় তবে তার প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিংয়ের বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া লেআ্উট, প্রেজেন্টেশন, প্রসেস ম্যানেজমেন্ট এক্ষেত্রে সহায়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ভালো লাগলে বন্ধুদের বলুন, মন্দ লাগলে আমাদের জানান

Leave a Reply

Follow Me

আপনার মস্তিষ্কের মালিকানা বুঝে নিন…

মস্তিষ্কের মালিকানা
error

করোনা কিন্তু করুণা করে না!!!

mahamid.biz@gmail.com
WhatsApp